মঙ্গলবার, ৬ই জানুয়ারী ২০২৬, ২৩শে পৌষ ১৪৩২

Shomoy News

Sopno


শুটিংয়ে যৌন হয়রানি : স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ


প্রকাশিত:
৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:০৫

আপডেট:
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:৩০

ছবি : সংগৃহীত

সাবেক শুটার জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি শুটারদের লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আরও কিছু বিষয় আমলে নিয়ে এক মাসের বেশি সময় তদন্ত করে। গতকাল তাদের সেই তদন্তের প্রতিবেদন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আগেই অবশ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। এরপরও নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি ৯ পাতার একটি রিপোর্ট প্রদান করেছে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সেই প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশ রয়েছে। তথ্য-বক্তব্য পর্যালোচনা করে সাজ্জাদের আচরণ, শুটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দিষ্ট শুটারকে হেনস্থা করা যা ফেডারেশনের কর্মকর্তার দায়িত্ব ও শালীনতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে কমিটির কাছে। এজন্য তাকে দীর্ঘমেয়াদী বা ১০ বছর শুটিং থেকে বহিষ্কার বা শুটিং অঙ্গনের বাইরে রাখার সুপারিশ এসেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে তিনি যেন নারী শুটার কিংবা কোচের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ না রাখতে পারেন, এজন্য নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি।

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলি। তাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করেছেন সাজ্জাদ, এমন অভিযোগ ছিল। কলি গণমাধ্যম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচিত হয়েছে। ২০২৬ সালে বছরের প্রথম দিনই কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করে ফেডারেশন। তদন্ত চলাবস্থায় ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তকে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনে করে কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশে, অভিযোগকারী শুটারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারা যেন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন সেটি নিশ্চিত করার কথা রয়েছে প্রতিবেদনে। প্রয়োজনে নারী খেলোয়াড়দের কাউন্সেলিংয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একজন নারী সদস্য, আইনজ্ঞ ও ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে একটি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাব এসেছে। ক্যাম্পের পরিবেশ বিশেষত ক্যাম্প এলাকায় সক্রিয় ও মনিরটরকৃত সিসিটিভি ব্যবস্থা নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে।

শুটিং অত্যন্ত সংবেদনশীল খেলা। শুটিং ফেডারেশনে অস্ত্র-গুলির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিতে গোলমাল খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। মজুদাগারের পাসওয়ার্ড শুধু যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের কাছে ছিল এবং সেই ফুটেজ এক সপ্তাহ সময়ের বেশি থাকে না। এজন্য ন্যূনতম তিন মাসের ফুটেজ রাখার সুপারিশ এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু নিবেদিতা দাস, সাবেক ভারোত্তোলক ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক ক্রীড়া শাহরিয়া সুলতানা সূচি এবং শুটিং ফেডারেশনের সদস্য দাইয়ান। শুটিং ফেডারেশনের সদস্য দাইয়ানকে কমিটিতে রাখা নিয়ে আগেই সমালোচনা হয়েছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি।

সাবেক জাতীয় শুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনগত মামলাও করেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে অব্যাহতি ও শুটিং ফেডারেশন কলিকে সাময়িক বহিষ্কার প্রসঙ্গে রত্না বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাকে অ্যাডহক কমিটি থেকে প্রত্যাহার করার জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে সামনে যেন তিনি ফেডারেশনে নির্বাচন বা কোনোভাবে কমিটিতে না আসতে পারেন, নারীদের সুরক্ষার জন্য এই দিকেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেটাই প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি মেধাবী শুটার কলির ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ ফেডারেশন যেন দ্রুত প্রত্যাহার করে, এজন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অনুরোধ জানাই।’


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top