সোমবার, ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ই ভাদ্র ১৪৩২

Shomoy News

Sopno


আর কোনো নীলনকশার নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না : ডা. তাহের


প্রকাশিত:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫৮

আপডেট:
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:৫০

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো নীলনকশার নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন যে- বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কোনো ধরনের পরিকল্পিত একটা নীলনকশার নির্বাচন আবার করা যায় কিনা সেই উদ্রেক করছে।

রোববার(৩১ আগস্ট) উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের আমন্ত্রণে যমুনায় বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একথা বলেন তিনি।

নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, বাংলাদেশে কোনো নীলনকশার নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না এবং এই সরকার জাতিকে সে উদ্যোগ নিয়ে, সে পরিস্থিতিকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, তবে সেরকম একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে না গিয়ে যদি একটি পরিকল্পিত ডিজাইন নির্বাচনের দিকে যায় তাহলে গণতন্ত্রকামী, দেশপ্রেমিক, ভারত বিরোধী শক্তির পক্ষে এরকম পরিকল্পিত নীলনকশার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগটা সংকুচিত হবে। যা দেশের জন্য কোনোভাবে মঙ্গলজনক হবে বলে আমরা মনে করি না।

আমরা ড. ইউনুসকে আর একটা কথা বলেছি, এই সরকারকে দেখে মনে হচ্ছে সব কিছুর উপরে হাত পায়ের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে। এখন সরকার যদি হাত পা ছেড়ে দেয় তাহলে দুষ্কৃতিকারিরা তো সুযোগ নিবে। আমরা বলেছি, আগে আপনারা যা ছিলেন, এখন তারচেয়েও শক্তিশালী ও কঠোর হতে হবে। কারণ একটা জাতীয় নির্বাচন তো করতে হবে।

আর যে সমস্ত সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের দালালেরা এখনো সিভিল ও পুলিশসহ প্রশাসনে রয়ে গেছে তাদের অবিলম্বে সরাতে হবে। দল নিরপেক্ষ, দক্ষ, যোগ্য লোকদের সেখানে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, তিনি তার ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথাবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা কি বলেছেন জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জামায়াতের বক্তব্য তারা যুক্তিসংগত মনে করেছেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও আরও অন্যান্য উপদেষ্টা ছিলেন। আমরা দেখতে চাই কী কী উদ্যোগ তারা নেন।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমরা যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্যে এসেছি, সেসব ব্যাপারে শুধু একটি দলই বিরোধিতা করে বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। আর বাকি সব দলই আমরা একমত। যেমন এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বাকিরা সবাই কিন্তু একমত।

আপনারা বলছেন নির্বাচনী ট্রেন চলা শুরু হয়েছে। নীল নকশার নির্বাচন কারা আয়োজনের চেষ্টা করছে? এ ধরনের নির্বাচনে আপনারা যাবেন কিনা? জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, নীলনকশা যারা করেন তাদের কিন্তু সব সময় সম্মুখে দেখা যায় না। আমরা দেখছি সচেতন আছি। নির্বাচনী ট্রেন ছাড়লেও এখনো কিন্তু প্ল্যাটফর্ম পার হয় নাই। সুতরাং নির্বাচনের সঠিক যে প্রস্তুতি সেটা যদি নেওয়া হয় ও নির্বাচনের যেসব ফ্যাক্টর আছে সেসব যদি সুরাহা হয়, ফুলফিল হয়, তাহলে আমরা দৌড় দিয়ে ট্রেনে উঠে পড়বো। সুতরাং অবশ্যই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সব বাধা দূর করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তিনটি বিষয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন। একটি হচ্ছে, কিছু বিষয়ে তিনি রিফর্ম করবেন, যেসব কারণে বার বার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দ্বিতীয়- বিচারকে দৃশ্যমান করা হবে। এবং তৃতীয়ত- বিশ্বমানের আনন্দঘন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তাহের বলেন কিন্তু আজকে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, এই সমস্ত অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ আছে বলেই আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

সংস্কার বিষয়ে প্রথম থেকে সাংবাদিকরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এক মাসের অধিক সময় ধরে ৩১টি দল রিফর্ম কমিশন মিলিয়ে একটি জায়গায় আসার চেষ্টা করেছি।

অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সব দল ঐক্যমত্য পোষণ করেছি। মেজর ইস্যু ছিল ১৯টি। কোন কোন মেজর ইস্যুতে ২/১টি দল নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন। তবে সর্বোপরি অংশ দল নিঃশর্ত ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। নোট অফ ডিসেন্ট যেকোনো দল বা ব্যক্তি দিতেই পারেন। নোট অব ডিসেন্টেে মাধ্যমে তাতে ঐক্যমত্যের কোনো হেরফের হয় না।

অল্প সংখ্যক দল, ঐক্যমত্য পোষণকৃত ১৯টি বিষয়ে বাধাগ্রস্ত করছেন। তারা বলছেন, নির্বাচিত সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে বলে চান। তাহলে আমরা রিফর্ম কমিশন করা হলো কেন?

তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে আমাদের কোন দ্বিমত নাই। আমাদের যে চার্টার্ট হয়েছে সেটি তিনটি অংশ। ওই চার্টার্ট মেনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত আমরা যেসব বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। কিন্তু তা বাস্তবায়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনীভিত্তির বিষয়ে ২/১টি দল বাধা দিচ্ছে। তাই যদি হবে, তা জুলাই চেতনা, রক্তদানের বিরুদ্ধে। এই চার্টার্টের অধীনের আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা আছে। আমাদের প্রশ্ন আছে, জনগণেরও প্রশ্ন আছে। আমরা যখন নির্বাচনের আগে নির্বাচন সুষ্ঠু করার পরিবেশের কথা বলেছি তখন একটি দল বলে আমরা এই তারিখে নির্বাচন চাই না। এই কথাটা বলাই একটা ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি। কারণ ইলেকশন হচ্ছে একটা পারসেপশনের ব্যাপার।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ড. ইউনুস আজও বলেছেন যে জুলাই সনদ হবে। এটা তাদেরই কাজ। কিন্তু সেটা না করেই নির্বাচনী ট্রেন ছেড়ে দেওয়াটা এক ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।

লন্ডন গিয়ে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করার পর জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ঘোষণাপত্রে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিনেই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও একই দিন রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ কেন? এতে কোনো চাপ আছে কিনা!

রোজার আগে নির্বাচনে আমাদের কোনো দ্বিধা নাই, দ্বিমত নাই। কিন্তু একটা দল যেভাবে চেয়েছে সেভাবে হচ্ছে। তারা শুধু নির্বাচনের দিকে গেছেন। আর আমরা বাকি সব দল এক আছি, না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এজন্য আমরা লড়াই করছি, দাবি করছি। কিন্তু আরেকটি দল সব ছেড়ে একাই এগিয়ে যাচ্ছে এত করে লেবেল প্লেয়িং এর ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। একটি দলকে ওপেনসিভ রাখা হয়েছে আর আমাদের সবাইকে ডিফেন্সিভ করা হয়েছে। আমরা বলেছি এখানে অবশ্যই লেবেল প্লেয়িং ফিল তৈরি করতে হবে। এটা নির্বাচনের আগেই ঠিক করতে আমরা ডক্টর ইউনুসকে বলেছি।

আমরা পিআরের (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) ব্যাপারে কথা বলেছি। ৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর চায়। সুতরাং পিআর মেজোরিটি দল চাইছে। এর মধ্যে কয়েকটি দল শুধু আপার হাউজে পিআর চায়, আর আমরা কয়েকটি দল মিলে বলেছি দুই হাউজেই আমরা পিআর চাই। এখানে পার্থক্য যাই হোক পিআর কিন্তু আমরা সবাই চাচ্ছি।

গত নির্বাচনগুলোতে ভোট ডাকাতি, কালো টাকার প্রভাব, দিনের ভোট রাতে হয়ে যাওয়াসহ সব অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি, একটি নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচন দরকার। তাতে করে আগের মতই কেন্দ্র দখল, জোরজবরদস্তির নির্বাচন হবে না। সনাতন পদ্ধতি তো আছেই, পিআর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা নিয়ে তো এখন একটা ঐক্যমত্য বা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা অধিকাংশ দলই তো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। কিন্তু আমাদের মেজোরিটিকে অবজ্ঞা করে, কোনো একটি দলের চাপে বা দাবিতে একই ট্রাডিশনে যদি নির্বাচনী ট্রেন চলে যায় তাহলে তো আমরা যারা পিআর পদ্ধতিতে ঐক্যমত্য পোষণ করেছি তাদের তো নির্বাচনে যাওয়ার পথ সংকুচিত, প্রশ্নবোধক হয়ে যাবে, নির্বাচনী ট্রেন তো আমরা মিস করতে পারি, কারণ ট্রেন তো ছেড়ে দিয়েছে।

তাহের বলেন, আমরা তো প্রস্তুতি রাখিনি। তাহলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজনের কারণে আপনিও প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। আমরা নির্বাচন চাই ফেব্রুয়ারিতে কিন্তু তার আগে এইসব প্রশ্নের সবাই মিলে একটা সমাধান করতে হবে। সবার সন্তুষ্টি ও সম্মতির ভিত্তিতে এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য উৎসবমুখর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনি এখন বলবেন সব ঠিক হয়ে যাবে, আর ভোটের দিন সব দখলে যাবে তারপর আপনি একটা বিবৃতি দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে বলবেন, এরকম নির্বাচন আমি চাই নাই৷ এতে কোনো সমস্যা দর সমাধান হবে না।

কথা পরিষ্কার, সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি আছে। এজন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে তার কর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে। কর্মীরা কথা না শুনলে বাদ দেন। কিন্তু দায়িত্ব নিতে হবে।

আগে একটা গ্রুপ বাসস্থান দখলে নিয়েছিল এখন আর একটা গ্রুপ বাস স্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে, আগে একটা গ্রুপ চাঁদাবাজি করতে এখন আর একটা গ্রুপ চাঁদাবাজি করছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দখলদারদের ব্যাপারে কোন ভূমিকা নিয়েছে আমরা সেটা দেখি না। এটা শুধু একটি দলে দায়িত্ব না, সরকারের দায়িত্ব। সরকার যদি বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করতে না পারে, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিতে পারে তাহলে এই সরকার জাতীয় নির্বাচনের মতো বিষয় কীভাবে সামলাবে? আমরা এতে শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন আছি। এখনো সময় আছে, সরকার যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাহলে এই পরিস্থিতির উত্তোলন সম্ভব। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই কেবল একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া সম্ভব।যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে যাবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এরআগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে রোববার(৩১ আগস্ট) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় যমুনা অতিথি ভবনে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল।

দলটির নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, দলের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি)।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top