পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ
প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:০০
আপডেট:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:৫৩
গত বছর নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এক ঐতিহাসিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। সেই জোটে তৃতীয় দেশ হিসেবে তুরস্ক যোগ দিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশগুলোর কূটনৈতিক সূত্র। এবার শক্তিশালী এই জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসলামাবাদ এক প্রতিবেদনে বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত একটি উদীয়মান শক্তিশালী সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ। কারণ গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এই বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার এই ধরনের কৌশলগত সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দেবে কিনা এবং দক্ষিণ এশীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসডিএমএ) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতাকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতার নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তা বহন করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ঘটলে, তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে চলতি মাসে জানুয়ারিতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তির মধ্যে যৌথ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আপগ্রেডে কাজ করছে দুই দেশ। এছাড়াও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করছে আঙ্কারা। ফলে তুরস্ক যদি এই জোটে যোগ দেয় তাহলে এটি একটি একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সত্তায় পরিণত হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিন্ন হুমকি মোকাবেলা এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সৌদি-মডেলের প্রতিরক্ষা চুক্তির আদলে একটি খসড়া তৈরি করতে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।
জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পরতনের পর গত এক বছরে উভয় দেশের সামরিক নেতৃত্বের দিপাক্ষিক সফর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কূটনৈতিক চ্যানেল পুনরুদ্ধার এবং প্রতিরক্ষা বিনিময়ের পথ প্রশস্ত করে।
সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান ইসলামাবাদ সফরকালে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ নির্মিত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।
তবে এই উন্নয়নগুলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের কৌশলগত বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ওপর। যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে খসড়া চুক্তির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: