জনগণের অধিকার রক্ষায় স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন: তাসনিম জারা
প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:০৭
আপডেট:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:৪৯
জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, বর্তমান সমাজে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার কাঠামো অতি দুর্বল। সরকারের কর্মকর্তারা দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে জনগণ বা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তাদের দায়মুক্ত রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এজন্য জনগণের অধিকার সুরক্ষায় স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান ও স্বাধীন প্রতিনিধির উপস্থিতি অত্যাবশ্যক।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে প্রাপ্তি, সংলাপ সহযোগী ও সিপিডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও রূপান্তরের প্রত্যাশা’ শীর্ষক খসড়া ইশতেহার উপস্থাপন সংলাপে জারা এসব বলেন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় যারা জনগণের ভোটে সংসদে যান, তারা কার্যত স্বাধীনভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান না। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর ঝুঁকি থাকায় এমপিরা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। এর ফলে সংসদের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে, তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সংসদ নির্বাচনের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ক্যাবিনেটের জবাবদিহি সংসদের কাছে থাকার কথা। কিন্তু সংসদ সদস্যরা যদি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দিতে না পারেন, তাহলে সংসদের সেই ভূমিকা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতে করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বাস্তবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা যদি দুর্নীতিতে জড়ান, তাহলে তাদের জবাবদিহি কে নিশ্চিত করবে—এই প্রশ্ন থেকেই যায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের কথা বলা হলেও, ওই কমিশনের কমিশনার নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে নিয়োগ হলেও সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ বাধ্যতামূলক হওয়ায় কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ফলে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা, তাদের কাছ থেকেই নিয়োগ পাওয়ায় প্রকৃত জবাবদিহির সুযোগ থাকে না।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংকট বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নেই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততা থাকায় কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।
জারা বলেন, যেসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জনগণের প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা, সেগুলো কার্যত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ, যাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা, সেই ব্যক্তিরাই এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন।
তাসনিম জারা বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে জনগণের অধিকারও সুরক্ষিত হবে না। গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। তা না হলে রাষ্ট্রের ভেতরে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা কেবল একটি ধারণা হিসেবেই থেকে যাবে।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: