জার্মানিতে বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, এক দশকে সর্বোচ্চ
প্রকাশিত:
৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৫
আপডেট:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ০০:৪১

২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো জার্মানিতে বেকারত্ব সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি আগস্ট মাসে বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।
দেশটির স্থবির অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই সময় শ্রম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক দশক পর প্রথমবারের মতো আগস্ট মাসে বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬.৪ শতাংশ।
ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির প্রধান আন্দ্রেয়া নাহলেস জার্মানির দুর্বল অর্থনীতিকে শ্রমবাজার সংকটের জন্য দায়ী করেছেন। ২০২৩ সালে ০.৩% সংকোচনের পর ২০২৪ সালে ইইউ'র বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধি ০.২% হ্রাস পেয়েছে। এই বছর প্রথম ত্রৈমাসিকে ০.৩% প্রবৃদ্ধির পর, নতুন মার্কিন শুল্কের কারণে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে উৎপাদন ০.৩% হ্রাস পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়েছে, জার্মানি টানা তৃতীয় বছর প্রবৃদ্ধি ছাড়াই স্থিতিশীল থাকতে পারে।
রুশ বার্তা সংস্থা আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, জার্মানির অর্থনৈতিক মন্দা কম খরচের রাশিয়ান জ্বালানি আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে গেছে। এটি তাদের শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মূলত রাশিয়ান পাইপলাইন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ইউরোপে গ্যাসের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার আগে জার্মানি তার ৫৫% গ্যাস রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করত। কিন্তু তারপর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার থেকে দামি এলএনজি আমদানিতে ঝুঁকে পড়েছে।
মস্কো বারবার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে 'অবৈধ এবং অকার্যকর' বলে নিন্দা করেছে। কেননা এটি আরোপ করা দেশগুলোরতেই উল্টো প্রভাব পড়েছে।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে স্বীকার করেছেন, জার্মানি সাময়িক 'দুর্বলতার' পরিবর্তে 'কাঠামোগত সংকটের' মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি বলেছেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, দেশটির মোটরগাড়ি খাত গত বছরে ৫১ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হারিয়েছে।
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: