রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩রা ফাল্গুন ১৪৩২


বদলে যাওয়া কণ্ঠস্বরে ভুগছে শহর


প্রকাশিত:
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৭

আপডেট:
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪০

প্রতীকী ছবি

ভয়েস চেঞ্জের কথা হয়তো শুনেছেন অনেকে। না, ইংরেজি ব্যাকরণের কথা হচ্ছে না। হচ্ছে কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার কথা। এই মৌসুমে শহরবাসীর জন্য নতুন মাথাব্যথা এটি। শহরজুড়ে বেড়েছে ভাইরাল সংক্রমণের দাপট। সঙ্গে জুটেছে দূষণ। কন্ঠ ভেঙে যাওয়া, বসে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ। মাস ঘুরলেও যা সহজে সারতে চায় না।

শীত কিংবা ঋতুবদলের সময়ে ঠান্ডা লাগা মানে মূলত শ্বাসনালীতে ভাইরাল সংক্রমণ। এতে অনেকের গলা বসে যায়, বদলে যায় কণ্ঠ। এই সমস্যা সাধারণত ৩-৭ দিন স্থায়ী হয়। এরপর স্বাভাবিক হয়ে যায়।

কিন্তু এই প্রাক-বসন্তের মৌসুমে দেখা যাচ্ছে, এই গলা বসে যাওয়ার সমস্যা চট করে সারতে চাইছে না। অন্তত ২৫ – ৩০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বদলে যাওয়া কর্কশ কিংবা ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠস্বর থেকে যাচ্ছে মাস শেষ হওয়ার পরও।

ইএনটি বিশেষজ্ঞের মতে, ‘ভাইরাল সংক্রমণের জেরে ফুলে ওঠে ল্যারিংস। সেখানে থাকে ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র। সেগুলো ফুলে ওঠায় কণ্ঠস্বর বদলে যায়। মুশকিল হচ্ছে, এই ফোলা ভাবটা সেরেও সারছে না অনেকের। ফলে এক-দেড় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও গলার বদলে যাওয়া আওয়াজ স্বাভাবিক হয়নি অনেকের। সঙ্গে থাকছে শুকনো কাশি। কারো কারো আবার হাঁফ ধরে যাওয়ার মতো শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞের মতে— ‘মূলত রাইনো ভাইরাস, প্যারা-ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেসপিরেটরি সিন্সিটিয়াল ভাইরাসের কারণে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সংক্রমণ এতটাই প্রদাহ সৃষ্টি করছে ল্যারিংসে (ল্যারিঞ্জাইটিস) যে এক মাসেও ভোকাল কর্ড স্বাভাবিক হচ্ছে না।'

চিকিৎসকদের মতে, গলা কর্কশ থাকলে চাপ পড়ে ভোকাল কর্ডে। অ্যাকিউট ল্যারিঞ্জাইটিসের সময়ে যারা গলার যত্ন নেন না, তাদের এই সমস্যাটা বেশি হয়। গলার যত্ন না নিলেল্যারিঞ্জাইটিস অ্যাকিউট থেকে ক্রনিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে চেঞ্জড ভয়েসও ঠিক হতে সময় নেয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পরেও জোরে কথা বলা ঠিক নয়। গলার সংক্রমণে গলাকে বিশ্রাম দিতে হয়। বিশেষ করে যারা শিক্ষকতা, ওকালতি, ডাক্তারি, গান, নাটক, সেলস, অ্যাঙ্কারিং ইত্যাদি পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকতে হবে। তাতেও না সারলে চা বা গরম পানীয় বার বার খেতে হবে। গলায় স্টিম ইনহেল করে ভাপ নিতে হবে।

দীর্ঘদিনেও সমস্যা না কমলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ, নেপথ্যে অন্য কোনো জটিল সমস্যাও থাকতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা থেকে শুরু করে গলার নানা অংশে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও গলার স্বর দীর্ঘমেয়াদে ঠিক হতে চায় না। তবে সেগুলো খুবই বিরল ঘটনা। সাধারণত ভয়েস রেস্ট দিলেই কিছুদিনের মধ্যে কণ্ঠ ঠিক হয়ে যায়।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top