মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ই ফাল্গুন ১৪৩২

একের পর এক প্রতিষ্ঠান এক্স ছাড়ছে কেন?


প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৮

আপডেট:
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৮

ফাইল ছবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স থেকে সরে যাচ্ছে একের পর এক প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কাউন্সিল, দাতব্য সংস্থা থেকে শুরু করে বহু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয় এআই টুল ‘গ্রোক’কে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, এই টুল ব্যবহার করে বাস্তব ব্যক্তিদের বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশন (নিকভা) গত মার্চেই এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সেলিন ম্যাকস্ট্রাভিক বলেন, প্ল্যাটফর্মটি তাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী হয়ে উঠেছিল। তার ভাষায়, “মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছিল। ঘৃণাত্মক মন্তব্য বাড়ছিল। নারীবিদ্বেষ উসকে দেওয়া হচ্ছিল।”

তিনি বলেন, একসময় টুইটার ছিল কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম। মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে সুবিধা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে পরিবেশ বদলে গেছে।

কমিউনিটি ফাউন্ডেশন ফর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডও গত মে মাসে এক্স ছাড়ে। সংস্থাটির প্রতিনিধি ডেভিড কেনেডি বলেন, “অনিয়ন্ত্রিত মন্তব্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্যের নিম্নমুখী প্রবণতা” তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার অভিযোগ, এলজিবিটিকিউ ও নতুন অভিবাসী সম্প্রদায়কে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছিল। এটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেন ইলন মাস্ক। এরপর প্ল্যাটফর্মটির নাম বদলে এক্স রাখা হয়। সমালোচকদের দাবি, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ায় ঘৃণাত্মক বক্তব্য বেড়েছে।

সোমবার বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল এক্স ব্যবহার স্থগিতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তারা গ্রোক এআই–এর তদারকি নিয়ে অফকমের পর্যালোচনার ফলের অপেক্ষায় থাকবে।

গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর ব্রায়ান স্মিথ বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, লাভের আগে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ডাবলিন সিটি কাউন্সিলও জানুয়ারিতে এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করেছে। এই সপ্তাহে উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিস (পিএসএনআই) জানিয়েছে, তারা জেলা পর্যায়ের এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করছে। তাদের বক্তব্য, ব্যবহার ও সম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করেই এ সিদ্ধান্ত।

কিউইউবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এমন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ রাখতে চায়, যা সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। তাদের মতে, এক্স গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।

এক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, প্ল্যাটফর্মটি কি তার পুরোনো অবস্থান হারাচ্ছে? নাকি এটি কেবল পরিবর্তনের একটি পর্যায়? উত্তর যা-ই হোক, একের পর এক প্রতিষ্ঠানের প্রস্থান এক্সের জন্য বড় সংকেত হয়ে উঠছে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top