সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ঠা ফাল্গুন ১৪৩২


বর্জনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচনের মাঠে ছিলেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা: টিআইবি


প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭

আপডেট:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৩

ছবি : সংগৃহীত

দলীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন নির্বাচন করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং দলটির কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেও দলটি নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থানে অনড় ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এমনকি দলটি জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা এবং তা প্রতিহত করার আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশে দলটির নেতিবাচক ভূমিকা এবং সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। একটি অংশ ভোট বর্জন করে থাকতে পারেন, যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে টিআইবি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক আকর্ষণের লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলে যোগ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নেন।

ফলে, আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতাকর্মী-সমর্থকেরা ভোট প্রদানসহ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের বয়সভিত্তিক হার হলো: ২৫-৩৪ বছর বয়সী ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ৩৫-৪৪ বছর বয়সী ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ৪৫-৫৪ বছর বয়সী ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ৫৫-৬৪ বছর বয়সী ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

সংস্থাটি জানায়, এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন ২০৯ জন। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা- দুজনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

টিআইবি প্রতিবেদনে জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যবিহীন প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল ও শো-ডাউন, পাঁচ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মতো অনিয়ম। এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা বা নষ্ট করার ঘটনাও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, আচরণবিধির মোট ৫৮টি বিষয়ে দলভিত্তিক প্রার্থীদের লঙ্ঘনের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top