ডায়রিয়া সারানোর ঘরোয়া উপায়
প্রকাশিত:
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৭
আপডেট:
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৮
ডায়রিয়া অনেক সময় ভয়ের কারণ হতে পারে। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় ধরে হালকা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো বড় স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ থাকে না এবং এটি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে।
তবে, ডায়রিয়া প্রতিরোধী ওষুধ হাতে রাখা ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের দ্রুততম উপায়ের মধ্যে একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইমোডিয়াম (লোপেরামাইড) এবং পেপ্টো-বিসমল (বিসমাথ সাবস্যালিসিলেট) এর মতো ওষুধ অন্ত্রে তরল চলাচলকে ধীর করে তাৎক্ষণিক উপশম প্রদান করতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না।
প্রাথমিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চলতে পারেন-
১. হাইড্রেটেড থাকুন
ডায়রিয়ার জন্য প্রচুর পানি পান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিকার। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার ফলে পানিশূন্যতা হতে পারে, তাই হারানো তরল পূরণ করা অপরিহার্য। যদিও সাধারণ পানি উপকারী, আরও ভালো হাইড্রেশনের জন্য চা, আপেলের রস বা অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল পান করতে পারেন।
২. ভাতের মাড়
ডায়ারিয়ার জন্য ভাতের মাড় একটি দ্রুত এবং কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার। প্রস্তুত করার জন্য ১ কাপ চাল ২ কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর ভাতের মাড় সংগ্রহ করুন। ভাতের মাড় পানিশূন্যতা রোধ করতে সাহায্য করে এবং মল বন্ধ করে, ডায়রিয়ার সময়কাল কমায়।
৩. বিশ্রাম এবং আরোগ্য
ডায়রিয়া আপনাকে দুর্বল এবং ক্লান্ত করতে পারে। যদি সম্ভব হয়, বিশ্রামের জন্য কয়েক দিন বিরতি নিন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং আপনার পেটে উষ্ণ কম্প্রেস দিয়ে আরাম করুন। এটি আপনার আরোগ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারে।
৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস
ডায়রিয়া হলে পনির, দুধ, কফি এবং ওটমিলের মতো খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে সাদা ভাত বা আলু জাতীয় স্টার্চযুক্ত খাবার বেছে নিন। ব্লুবেরিতে অ্যান্থোসায়ানোসাইড থাকে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটিও ডায়রিয়া উপশম করতে সাহায্য করে।
৫. পেয়ারা পাতা
এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিকারটি শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি অত্যন্ত কার্যকর। পেয়ারা পাতায় ট্যানিন থাকে, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং অন্ত্রের নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে ডায়রিয়া দ্রুত বন্ধ হয়।
৬. প্রোবায়োটিকস
প্রোবায়োটিক সম্পূরক গ্রহণ বা দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে অন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং ডায়রিয়ার সময়কাল কমাতে সাহায্য করে।
৭. শুকনো আদা
ডায়রিয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো ঐতিহ্যবাহী প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি হলো শুকনো আদা। খাদ্যে বিষক্রিয়া বা বমি বমি ভাবের কারণে ডায়রিয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর। আপনি এক টুকরো শুকনো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন বা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানিও পান করতে পারেন। এই পানীয়টি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং ডায়রিয়া উপশম করতে সাহায্য করে।
সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: