মেক্সিকোয় ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২
প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:২৭
আপডেট:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:১৪
ভূমিকম্পটির উৎপত্তি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোসের কাছে, পর্যটন শহর আকাপুলকোর উপকূলবর্তী এলাকায়। রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মেক্সিকোয় স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে যে ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত ২ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। এছাড়া অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মেক্সিকোর ভূকম্প গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুসারে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭ টা ৫৮ মিনেটে ঘটেভে ভূমিকম্প। মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরে ভূপৃষ্টের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। সান মার্কোস শহরটি মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত পর্যটন শহর আকাপুলকো থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে।
গুয়েরেরোর গভর্নর এভলিন সালগাদো জানিয়েছেন, তার রাজ্যে সান মার্কোস শহরের কাছে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় বাড়ির ছাদ ধসে নিহত হয়েছেন তিনি। এছাড়া যে ১২ জন আহত হয়েছেন, তারা সবাই গুয়েরেরো রাজ্যের।
আর রাজধানী মেক্সিকো সিটির মেয়র কার্লা ব্রুগাদা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর উদ্ধার তৎপরতা চালানোর সময় একটি ভবনের দোতলা থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। তার বয়স ছিল ৬০ বছর।
মেয়র ব্রুগাদা আরও জানান, মূল ভূমিকম্পের পরও একাধিক আঘাত অনুভূত হচ্ছে, যা নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি নগরবাসীকে শান্ত থাকার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ধসের ঝুঁকি থাকায় রাজধানীতে অন্তত দুটি বড় কাঠামো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩৪টি ভবন ও ৫টি বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শনও করা হচ্ছে।
মেক্সিকোর জাতীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ নাগরিকদের জরুরি ব্যাকপ্যাক প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যাকপ্যাকের মধ্যে টর্চলাইট, ব্যাটারিচালিত রেডিও, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, উষ্ণ পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ফটোকপি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকো সিটি ও অন্যান্য শহরের বহু বাসিন্দা এবং পর্যটক ভূমিকম্পের আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন ভবন কাঁপছে।
ভূমিকম্পের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন। ভিডিওতে তাকে ‘এটি কাঁপছে’ বলতে শোনা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠে। উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মেক্সিকোতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: