বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ই ফাল্গুন ১৪৩২


তিন মহাসড়কে টানা ৮ ঘণ্টার যানজট, ভোগান্তি চরমে


প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৫

আপডেট:
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়ের বিভিন্ন অংশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানজটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে স্থবিরতা দেখা গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সরেজমিনে দেখা যায় তিন মহাসড়কেই ট্রাক, বাস, পিকআপ ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে শনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকামুখী লেনে মদনপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

কাঁচপুর এলাকায় অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে, সেখানে আজ লেগেছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কর্মস্থল ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পড়েন চরম বিপাকে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

ঢাকামুখী লেনে আটকে থাকা একটি বাসের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। গরম আর ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে গেছে।

শাহ আলম নামে এক ট্রাকচালক জানান, এশিয়ান হাইওয়ের ভাঙা অংশে ধীরগতিতে চলাচল করতে গিয়ে পুরো লেনেই চাপ তৈরি হয়। রাস্তার কিছু অংশ এতটাই খারাপ যে গতি কমানো ছাড়া উপায় নেই।

পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তানজিলা আক্তার তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে এই অংশ পার হতে বেশি সময় লাগে না। আজ যানজটের কারণে বাচ্চা নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ বলেন, দুপুরের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে সময়সূচি পুরো ভেস্তে গেছে। অফিসের জরুরি কাজ মিস হবে।

পিকআপ চালক শওকত আলী বলেন, আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছি। রাস্তার একাধিক স্থানে ধীরগতির কারণে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। কোথাও কোথাও গাড়ি একেবারেই নড়ছে না।

ট্রেন মিস করে বাসে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু এই যানজটে পড়ে মনে হচ্ছে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হবে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইনচার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা বলেন, নির্বাচনের ছুটি শেষে শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রাক চলাচল হঠাৎ বেড়ে গেছে। এছাড়া মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়ের কয়েকটি অংশ অতিমাত্রায় ভাঙা থাকায় ট্রাকগুলো ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, যানজট নিরসনে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সড়কের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে এমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top