বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তার আয়োজনে বিজ্ঞান উৎসবের ৩য় আসর শুরু
প্রকাশিত:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৮
আপডেট:
৩১ আগস্ট ২০২৫ ২২:২৫

সারাদেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় উৎসাহী করতে বিকাশ এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক মাসিক পত্রিকা বিজ্ঞানচিন্তার আয়োজনে শুরু হলো দেশব্যাপী ‘বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসব’-এর তৃতীয় আসর।
রাজধানীর মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঢাকার প্রায় ১২০টির ও বেশি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও গবেষণাধর্মী প্রকল্প প্রদর্শন, কুইজ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো এবারের বিজ্ঞান উৎসব।
রোবট ‘ওয়াল.ই’র উদ্বোধন ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় এবারের আয়োজন। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে আঞ্চলিক পর্ব শেষে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত পর্বের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিজ্ঞান উৎসব।
ছোটবেলা থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করে বিশ্বের জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন। দেশব্যাপী অনুষ্ঠেয় গত দুই উৎসবে ৮৫০টি স্কুলের ২০ হাজারের বেশি প্রতিযোগী ৬০০টি বিজ্ঞান বিষয়ক উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এছাড়া প্রায় ৪৩০০ শিক্ষার্থী কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা এই আয়োজনগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.), মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারজানা শাকিল, বিজ্ঞান চিন্তার সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন, রম্য লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, বিজ্ঞান বক্তা আসিফ, বিকাশের ইভিপি ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স হুমায়ুন কবির ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট সায়মা আহসান, বিজ্ঞানচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসারসহ অনেকে।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষা ও চর্চায় আগ্রহী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে ঢাকার প্রায় ১২০টির ও বেশি স্কুলের শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে ‘অ্যাডভান্স মার্স রোভার, ‘সাসটেইনেবল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন’, ‘অ্যাকুয়াফ্লাক্স’, ‘লাইফাই’ এর মতো ১৫০টির বেশি প্রকল্প উপস্থাপন করে। প্রকল্প উপস্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কুইজ পর্বেও অংশগ্রহণ করে। বিজ্ঞান প্রকল্পের সেরা ১৭টি প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি, কুইজে অংশগ্রহণকারী নিম্ন মাধ্যমিকে সেরা ১৭ বিজয়ী ও মাধ্যমিকে সেরা ১৫ বিজয়ীকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিবেশ-বান্ধব অ্যাপ বানানোর প্রকল্প বানিয়ে সেরা হন সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র রাইয়িন আল রাদ।
বিভাগীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান প্রকল্পে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরবর্তীতে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞান উৎসব আয়োজন করা হবে। সারাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাড়তি চমক হিসেবে ছিল বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন স্টল, রোবটিক্স প্রদর্শনী, বিজ্ঞান ম্যাজিক, লেখক, গণিতবিদ, বিজ্ঞান বক্তাদের বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তর পর্ব, সংগীতানুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: