বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২শে মাঘ ১৪৩২


যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব : শফিকুর রহমান


প্রকাশিত:
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১২

আপডেট:
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২০

ছবি : সংগৃহীত

যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার, এখন তিস্তার নাম এক সাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।

বুধবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা জাতির সঙ্গে দীর্ঘসময় বেঈমানি করেছে, আগামীর নির্বাচন তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। রাজনীতির নামে ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়; এটি হচ্ছে রাজার নীতি। আগামী ১৩ তারিখ বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হোক। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদীর পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে। আর নদীভাঙনের কবলে হাজার হাজার পরিবারকে নিঃস্ব হতে হবে না। তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। কারণ আমার দেশ আগে, এদেশের জনগণের স্বার্থ আগে। আমরা কারো স্বার্থে আঘাত দেবো না কিন্তু কেউ আগে আমাদের স্বার্থে আঘাত করলে সেটা মেনে নেবো না। এখন অনেক যৌক্তিক দাবি রয়েছে, তাদের মধ্যে বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা পাড় থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে বসন্তের কোকিলের মতো একবার দেখা দেয়। আমরা বসন্তের কোকিল না, দুঃখের সময়েও আছি ভালো সময়েও আছি। আমরা বিপদের সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যাই না, মাটি কামড়ে ধরে থাকি। আমরা দেশবাসীর বুকে আশ্রয় চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ক্ষমতা পালাবদলের সময় এসেছে। আপনারা বিশ্রামে যান, আমাদের সুযোগ দেন। আমরা কখনও দেশের মানুষকে ছেড়ে যাব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তুলব। যখন কর্মসংস্থান হবে, তখন সারাদেশ উন্নত হবে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত শস্য শুধু দেশের চাহিদা নয়, বিদেশে রপ্তানি করাও যাবে। আল্লাহ যদি আমাদের এ দেশ নেওয়ার সুযোগ দেন। আমার যদি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি, দেশে যারা আছে সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।

তিনি নারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমানে মা-বোনেরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। আমরা বলে রাখি, প্রয়োজনে জীবন দিব; তবুও মা-বোনের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না। এদেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা দেখি। তারা শিক্ষিত হবেন, দেশ গড়তে দায়িত্ব নিবেন। তারা কর্মস্থানে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ। তারা সব জায়গায় থাকবে, নিরাপদভাবে কাজ করবে মর্যাদার সঙ্গে। আমরা নারী জাতির জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।

গণভোট সম্পর্কে জামায়াতে আমির বলেন, আমাদের দুটি ভোট। একটি হচ্ছে গণভোট- সেখানে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা সবাই ১২ তারিখের প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’তে দেব ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাইকে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জন্য বলব। একটি দল ‘না’ ভোট বলেছিল যখন দেখে জনস্রোতে ভেসে যাবে, তখন ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিতে বলেছে। আমরা তাদের প্রতি জানাই মোবারকবাদ।

এসময়ে লালমনিরহাট জেলা আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও জেলা উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির নীলফামারীর চারটি আসন ও লালমনিরহাটের তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top