মঙ্গলবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১শে মাঘ ১৪৩২


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আশা ইরানের


প্রকাশিত:
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৩

আপডেট:
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫২

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি-সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর একটি কাঠামো নিয়ে অগ্রগতির আশা করছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ তারা পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সংঘাতের হুমকি থেকে কিছুটা সরে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের কূটনৈতিক উদ্যোগে শুক্রবার তুরস্কে একটি সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে।

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। এর পরদিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি নিশ্চিত করেন, পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদানে মধ্যস্থতা করছে।’ আলোচনার বিস্তারিত না জানালেও তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের বিষয় আমরা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করছি। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।’

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে, ফার্স নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আব্বাস আরাগচির বৈঠক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তেহরান বা ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার ইসরায়েলে যাবেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়। অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে মুদ্রার অবমূল্যায়ন—এসব থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা পরে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে রূপ নেয়।

পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বদলে গিয়ে পারমাণবিক চুক্তির ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

রয়টার্স জানায়, আলোচনায় ফেরার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি জানিয়েছে। অতীতে পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয়তা দেখালেও ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে ইরান অনড় অবস্থানে ছিল।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রয়োজন থাকলেও, ইরান এই অবস্থান বদলাবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গত জুনে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও, পরে ইসরায়েলের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর সেই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।

গত রবিবার ট্রাম্প বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে কথা বলছে’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের খুব বড় ও শক্তিশালী জাহাজ সেদিকে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top