সোমবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৬, ২৩শে চৈত্র ১৪৩২


ঘটা করে অভিযান, শেষ হতেই ফুটপাত সেই হকারদের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৩

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান, মালামাল জব্দ, জড়িতদের অর্থদণ্ড ও গ্রেপ্তারের পরও আবারও সেই ফুটপাতেই ফিরছেন হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে পাঁচদিনের উচ্ছেদ অভিযান শেষে আজ (সোমবার) রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটপাতগুলো দখলে নিতে শুরু করেছেন তারা। কেউ বলছেন পেটের দায়ে আবারো ফুটপাতে দোকান খুলছেন। কেউ আবার নির্ধারিত জায়গা অন্যের দখলে চলে যাওয়ার ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদের নামে অনৈতিক বাণিজ্যে সক্রিয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী। পুলিশ দিয়ে উচ্ছেদের মাধ্যমে ফুটপাতের ব্যবসা আসলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় এই গোষ্ঠী। তারা তাদের পছন্দের মানুষদের বসাতে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই উচ্ছেদ অভিযান করাচ্ছেন।

তবে পুলিশ বলছে, ফুটপাত দখল করা একশ্রেণির ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুরোনো অভ্যাস। ফলে চেষ্টা করেও এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না তারা।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হকারদের কোনোভাবে আর ফুটপাতে বসতে দেওয়া হবে না। তাদের পুনর্বাসনে ‘হলিডে এবং নাইট মার্কেট’ বসানোর জন্য সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এজন্য রাজধানীর ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করা ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এমন বাস্তবতার মধ্যেই পূর্বঘোষিত পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযানের পর আজ ঢাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটপাত দখল করে আবারো বসে পড়েছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নিজেদের পূর্বনির্ধারিত স্থানেই বসতে শুরু করেছেন তারা। হকাররা রাস্তায় ফেরায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও।

সাধারণ পথচারীরা বলছেন, বিগত সময়ের মতোই লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তা-না হলে ঘোষণা দিয়ে উচ্ছেদের পরও তারা আবারো ফুটপাত দখলের সাহস পায় কোথায়? এখন প্রশাসনের লোকজন কী করছে? তাদের সামনেই তো আবারো ফুটপাত দখল নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাত দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীরা পুরোনো দিনের মতো আবারো বসে পড়েছেন। অবশ্য এখনো অনেকেই ভয়ে ভয়ে দোকান খুলছেন। গোলাপ শাহ্ মাজারের সামনের রাস্তায় পূর্বে স্থায়ী চৌকি ও ভ্যানগাড়ি বসিয়ে যারা ব্যবসা করতেন, তারা এখন অবশ্য বিছানা চাদর বিছিয়ে তার ওপরে মালামাল সাজিয়ে বসেছেন। আবার অভিযান হলে বা পুলিশ ধাওয়া দিলে বিছানার ওপর সাজানো মালামাল নিয়ে যেন দ্রুত সরে যাওয়া যায়, সেজন্যই এ ব্যবস্থা।

গুলিস্তান ছাড়াও পল্টন, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিল এলাকায় ফুটপাতে অসংখ্য দোকান বসতে দেখা গেছে। তবে গুলিস্তানের তুলনায় অন্যান্য এলাকায় ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কম বসতে দেখা গেছে।

গুলিস্তানের ফুটপাতে দোকান খুলেছেন এমন একজন ব্যবসায়ী জানান, ‘একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আমাদের সরিয়ে তাদের পছন্দের লোকজন বসাতে চাচ্ছেন। তাই ঝুঁকি নিয়েই নিজের জায়গা ধরে রাখতে আমরা দোকান খুলেছি।’ তার নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

তবে রোকুনুজ্জাম নামের একজন ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের পর থেকে বেচাবিক্রি ছিল না। এর মধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মারা যেতে হবে। তাই ৫ দিন পর আজ দোকান খুলেছি।

মোহাইমিনুল নামে একজন পথচারী বলেন, আমাদের দেশে সিস্টেমটাই এমন হয়েছে যে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের নামে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এখনও বিগত সময়ের মতোই লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তা-না হলে ঘোষণা দিয়ে উচ্ছেদ করার পরও তারা একদিনের মধ্যেই আবারও ফুটপাত দখলের সাহস পায় কোথায়? এখন প্রশাসনের লোকজন কী করছে? তাদের সামনেই তো আবারো ফুটপাত দখল নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। তারা কঠোর থাকলে এটা তো হওয়ার কথা নয়।

এদিকে পাঁচ দিনের উচ্ছেদ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটপাতের দোকানগুলো ভেঙে দেয়া হলেও বাইতুল মোকাররমের গোল্ড মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকানগুলোতে হাত দেয়নি প্রশাসন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ফুটপাতের দোকান তুলে দিতে বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী গ্রুপের অফিসের সামনে মানবন্ধন পালন করেছেন স্থায়ী ব্যবসায়ীরা। দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা, গোল্ড মার্কেটের সামনে থেকে ফুটপাতের দোকানগুলো এক ঘন্টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়