জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তিতে অধ্যাদেশের সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:১২
আপডেট:
৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:০৯
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নীতিগতভাবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য ‘জুলাইযোদ্ধা’দের দায়মুক্তি দিতে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আইন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে তাহরিমা জান্নাত সুরভী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই দাবি আরও জোরালো হয়। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি পর্যালোচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবারই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা ও অনুপ্রবেশের আশঙ্কা মোকাবিলায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য সহ্য করা হবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: