ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল পাভেলের, ফিরলেন কফিনে
প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:১৮
আপডেট:
৯ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:২৬
ভাগ্য বদলাতে দুই বছর আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. হারুন অর রশিদ পাভেল (৩০)। কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ছুটিও নিয়েছিলেন। পাভেল দেশে ফিরেছেন, তবে কফিনবন্দি হয়ে। সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে পাভেল মারা যান।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় এক নজর মরদেহ দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমান আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
মৃত হারুন অর রশিদ পাভেল সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় চারিগাঁও গ্রামের ছুনু মিয়াজি বাড়ির বেলায়েত হোসেন বালাগাত উল্লাহর ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো। তার স্ত্রী এবং দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গিয়ে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি নেন পাভেল। তিনি লিভারের সমস্যা ও জন্ডিসে ভুগছিলেন। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১০ মিনিটে রিয়াদের কিং সৌদ সিটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহতের ভাই সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাই মাত্র দুই বছর হলো সৌদি গেছে। ছুটি নিয়ে দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আসলো লাশ হয়ে। আমাদের পরিবারের জন্য এটা অপূরণীয় ক্ষতি।
নিহতের মামাতো ভাই নুর হোসেন বাবলু ঢাকা পোস্টকে বলেন, পাভেলের ব্যবহার ছিল খুবই ভালো। সবসময় হাসিমুখে কথা বলত। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নিতে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছিল।
নিহতের মা বিবি কুলসুম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ছেলেটা বিদেশ গিয়ে আমাদের সুখের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ছুটি নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল। আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করতাম কিন্তু আমার বুকের ধন আর ফিরল না। আল্লাহ আমার ছেলেকে ফিরিয়ে নিলেন, আমি কিছুই করতে পারলাম না।
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন পাভেল। কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে তার দেশে ফিরতে হবে কেউ কল্পনাও করেনি। জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: