২২ লাখ টন খাদ্য মজুদ আছে : খাদ্য উপদেষ্টা
প্রকাশিত:
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৫
আপডেট:
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৮
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমাদের নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ১৩.৫ লাখ টন; অথচ বর্তমানে আমাদের গুদামগুলোতে ২২ লাখ ১০ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ আছে। ফলে দুই দিন পর যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। তিনি ধীরস্থিরভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আপনারা একটি প্রতিবেদন দেখেছেন। সেখানে চলতি বছরসহ গত ছয় বছরের একটি তুলনামূলক বিবরণী দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের খাদ্য মজুদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আমি সবসময় একটি কথা বলতাম যে, আমরা দায়িত্ব ছাড়ার সময় যতটুকু মজুদ থাকার কথা, ইনশাআল্লাহ তার চেয়ে বেশিই রেখে যাব। আমাদের যেখানে নিরাপদ মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩.৫ লাখ টন, সেখানে বর্তমানে ২২ লাখ ১০ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ আছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মজুদ পর্যাপ্ত থাকার জন্য প্রোগ্রামগুলো চলমান আছে। প্রোগ্রামগুলো ব্যহত হবে না। এই চেয়ারে যে মন্ত্রী বসবেন, এক দুই দিন পরে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তরিঘরি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। তিনি ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, আমি দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রধান লক্ষ্য (মেইন ফোকাস) হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে, বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকেরা ঘরে বসেই খতিয়ান ও নকশা পাচ্ছেন। এমনকি ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান এবং নামজারিও (মিউটেশন) অনলাইনেই সম্পন্ন করা যাচ্ছে। এই সেবাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও বিস্তৃত করতে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এর সুফলও আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভূমি অফিসে গিয়ে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হন, তা টেকসই সিস্টেমের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে দূর করতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।
ভূমি রেজিস্ট্রেশন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন উপদেষ্টা পরিষদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আমরা সফল হয় নাই। আমি কাউকে দায়ি করব না। আমি পারি নাই, ব্যর্থতার দায়ভারটা আমি নিচ্ছি, এটা করতে পারিনি।
আপনি সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি দুই অর্থবছরই সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি। বাকি কাজটা আমার না। আয়কর বিভাগে যেটা দেওয়ার কথা সেটা দিছি। এরপরে আমি উপদেষ্টা হিসেবে যেটা মন্ত্রী বিভাগে আমার পাঠানোর নিয়ম আছে সেটা আমি দিয়েছি। এবং সর্বশেষ যখন আবার লেখালেখি শুরু হলো এটা নিয়ে, আমি আমার পিএসকে ওখানে পাঠিয়ে চেক করেছি যে আমার এটা যথাযথ আছে কিনা। দেখছি যে এটা যথাযথ আছে।
তিনি আরও বলেন, আমি ৮ তারিখে নয়, বরং ১২ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। প্রধান উপদেষ্টা যখন আমাকে সাক্ষাতের জন্য ডেকে পাঠান, তখন কী কারণে ডাকা হচ্ছে তা আমাকে জানানো হয়নি। ওই সময়ে রাস্তায় বা থানায় কোনো পুলিশ ছিল না; প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ ছিল। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেছিলেন, কেউ কেউ আবার আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। আমাকে অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হচ্ছে, আমাদের সচিবদের একটি অংশও তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এমনকি যথেষ্ট দায়িত্বশীল পদে আসীন কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বিগত সরকারের সাথে তাদের অনৈতিক সমঝোতা ও সংশ্লিষ্টতা এত বেশি ছিল যে, তারা অন্যদের সামনে আসতে বা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহস পাচ্ছিলেন না। এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমি যতটা সুযোগ পেয়েছি, সুযোগটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছি। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা আছে, এই ব্যর্থতার দায়ভারত আমি নিলাম।
সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: