বৃহঃস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩শে মাঘ ১৪৩২


গোলটেবিল সংলাপ

ভোট গণনায় দেরি হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে


প্রকাশিত:
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০

আপডেট:
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৭

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা ক্রমাগতভাবে জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভোট গণনায় দেরি হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং অস্থিরতা বাড়তে পারে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই একদল বিকারগ্রস্ত মানুষ দেশের ওপর ‘মরণকামড়’ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : ভোট কারচুপি রোধে নাগরিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকটি আয়োজন করে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন)।

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের যুগ্ম সহকারী জেসমিন তুলি বলেন, নির্বাচনে দুইভাবে কারচুপি হয়ে থাকে— একটি দৃশ্যমান, অন্যটি অদৃশ্যমান। তফসিল ঘোষণার আগেই অনেক বিষয় ডিজাইন করে ফেলা যায় যে নির্বাচন কেমন হবে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত ভোটার তালিকার কথা এসেছে। আগে ভোটার তালিকা কারচুপির একটি বড় জায়গা ছিল। বর্তমানে ভারতেও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। আমাদের ভোটার তালিকা বায়োমেট্রিক হওয়ায় কারচুপি কিছুটা কমেছে। ভোটার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। একটি তফসিল ঘোষণার আগে বা নির্বাচনের বছরে কত সংখ্যক ভোটার স্থানান্তর করা যাবে, সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট কিছু নেই। এই সুযোগটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কারচুপি রোধে নির্বাচন কমিশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

ভোটের সিল উদ্ধার প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, ব্যালটের একটি নির্দিষ্ট ধরন থাকে। আমরা যদি একটি সিরিয়াল জানি এবং নিজের মতো সিল মারি, তবে তা ধরা পড়ে যেতে পারে। আমার কাছে ভয়ের বিষয় হলো— ব্যালটের সফট কপি কি কোনোভাবে ফাঁস হয়েছে? যা পরে সহজে প্রিন্ট করে নেওয়া যায়? তা না হলে ভোটের সিল কেন পাওয়া যাবে? এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক দলগুলোকে এটি মাথায় রাখতে হবে। অভিযুক্ত নেতাকে বহিষ্কার করায় আমি সংশ্লিষ্ট দলকে সাধুবাদ জানাই। তবে দেখতে হবে এটি কি শুধু স্থানীয়ভাবে করা হয়েছে নাকি কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর আমরা বড় সংস্কার চেয়েছি। তবে সব সংস্কারের চেয়ে নির্বাচন ঠিকঠাক হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন বলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ৪-৫টি নির্বাচন ঠিকঠাক মতো করতে পারলে আমরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ দেখব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, আমাদের উদ্বেগগুলো নির্বাচন কমিশনকে জানানো দরকার। নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই। তবে আমি আশাবাদী, জনগণ কোনো ফাঁদে পা দেবে না। কমিশন নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেবে, কারণ জনগণের উৎসাহে কোনো ঘাটতি নেই। জনগণ শান্তিপূণভাবে যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রুমানা পারভীন বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে রাতের বেলা ভোট হয়েছে। এ কজন ব্যক্তি একাধিক ভোট দিতে পারেন কি না সেটিও বড় বিষয়। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রমাণ আছে। তখন সেটি ছিল স্বাধীনতাকালীন অনির্বাচিত সরকার।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অফিসিয়ালি ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির কথা বলা হলেও কার্যত ছিল ১০ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে প্রশাসনের সহায়তায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসন যদি কারচুপিতে জড়িত হয়, তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারই বা কী করবে?

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাতে কেন ব্যালট পেপার স্থানান্তর করতে হবে? রাতের নিরাপত্তা দিনের চেয়ে কঠিন। এছাড়া ভোটার তালিকার ছবি স্পষ্ট কি না তা যাচাই করা জরুরি। ছবি অস্পষ্ট হলে পোলিং অফিসাররা কীভাবে তা যাচাই করবেন? আমি ব্যক্তিগতভাবে এই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি।

সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ বলেন, ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনেও আগের চেয়ে হানাহানির ঘটনা অনেক বেশি ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের কারচুপি নিয়ে সন্দিহান। একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রধান যখন আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বড় দলের নেতা বলেন যে— ভোট গণনায় দুই দিন লাগা মানেই কারচুপি, তখন সাধারণ মানুষের আশঙ্কা আরও বাড়ে। এ দেশে ভোট নিয়ে তালবাহানা করে কেউ টিকে থাকতে পারে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রেইন-এর পরিচালক সফিকুর রহমান। এছাড়া আরও আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ, সাইয়েদ আবদুল্লাহ, মাবরুরুল হক এবং লেখক তুহীন খান প্রমুখ।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top