কেন হাদিকে টার্গেট, জানাল পুলিশ
প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:১৬
আপডেট:
৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:৩৯
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে কেন হত্যার জন্য টার্গেট করা হয় জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ওসমান হাদি হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন আলোচিত একজন ব্যক্তি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতেন। বিভিন্ন সভা–সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কড়া সমালোচনা করতেন। তাঁর এসব বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, হাদিকে গুলি করেন ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহায়তা করেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, যিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর আগের রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বেলা সোয়া দুইটার দিকে রাজধানীর বক্স–কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুজন ব্যক্তি খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: