ইরানে বিক্ষোভের তৃতীয় দিন, ছড়িয়ে পড়ছে নতুন শহরে
প্রকাশিত:
১ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০৮
আপডেট:
১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:১৯
নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার মূল্য পতন চরমে পৌঁছানোর প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনে ইরানের কারাজ, হামেদান, কেশম, মালার্দ, ইসপাহান, কেরমানশাহ, শিরাজ ও ইয়াজদ শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।
গত রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মূল্য সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছে। এর পরই বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন দোকানিরা। ইরান সরকার বলেছে, তারা বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়টি স্বীকার করেন; কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ধৈর্যের সঙ্গে শোনা হবে। বিবিসির খবরে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তারা সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
এএফপি জানিয়েছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে মোসাদ। রাজধানী তেহরান ও দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাটি বলছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠেই আছে’।
মোসাদের ফার্সি ভাষায় পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়, ‘আপনারা সবাই একত্র হয়ে সড়কে নেমে আসুন। এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমরা শুধু দূরে বসে থেকে বা কথা বলে দায় সারছি না। আমরা আপনারে সঙ্গে ময়দানেই আছি।’
দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের অর্থনীতির অবস্থা নাজুক। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির দাবিতে গত রোববার থেকে তেহরানের খুচরা দোকানমালিকরা পথে নামে।
তাদের এই বিক্ষোভ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি রিয়ালের মূল্যমান ডলার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বারবার কমেছে। যার ফলে আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এতে খুচরা দোকানিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক শেষে নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছেন, পরমাণু বা ব্যালাসটিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প পুনর্নিমাণ করার উদ্যোগ নিলে তেহরানকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে জড়ায়। ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে এই সংঘাত শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েল দাবি করে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা বিঘ্নিত করা ও ব্যালাসটিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা।
ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দেয় ইরান। এক পর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে পরমাণু স্থাপনার ওপর হামলায় যোগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘাতের অবসান ঘটে।
ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না ইরান। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও মোসাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর অভিযোগ এনেছে তেহরান।
বিশেষত, পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংস ও বিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনায় মোসাদের সরাসরি সংযোগ আছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে সরাসরি সমর্থন যোগানোর অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা বিশ্ব।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাবেক হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে তেহরানে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় মোসাদের সংযোগ আছে বলে অনুমান করা হয়।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: