বুধবার, ২৯শে এপ্রিল ২০২৬, ১৬ই বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বরগুনায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রপাতে একটি স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তাদেরকে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হল- হাবিবা, জান্নাতি, ইয়াসমিন, মিম, জান্নাতি, ঐশী, রিয়া মনি, মনিরা, রুমি, কারিমা ও রিয়া মনি। তারা সবাই ওই স্কুলের ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সকালে ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছিল। এ সময় আবহাওয়া খারাপ হয়ে কালবৈশাখি ঝড় শুরু হয়। পরে হঠাৎ বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ুয়া অন্তত ১২-১৩ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীদেরকে একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে যান শিক্ষকরা। তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখে প্রথমে তাদেরকে ফুলঝুড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোট ১১ জন শিক্ষার্থীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফুলঝুড়ি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. রুনা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের ক্লাস চলাকালে বৃষ্টি শুরু হয়। ওই সময় স্কুলের সামনে থাকা একটি তালগাছে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে আমাদের স্কুলের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে যায়। অসুস্থদের বেশিরভাগ স্কুলের তৃতীয় তলায় ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে ছিল। আর আমরা চার তলায় নবম শ্রেণির ক্লাসে ছিলাম।
রিফা নামে ওই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের স্কুলের সামনেই বজ্রপাত হয়েছে। ওই সময় বিকট শব্দে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. ওবায়দুল কবির বলেন, ফুলঝুড়িতে হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় শুরু হয়। আমরা সবাই ক্লাসে ছিলাম। ওই সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে স্কুলের তৃতীয় তলায় থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। এবং অনেকেই ভয়ে কথা বলতে পারেনি। পরে তাদেরকে স্কুলের হাইজিন কর্নারে নিয়ে গিয়ে যতটুকু সম্ভব হয়েছে সুস্থ করার চেষ্টা করেছি। পরে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদেকে পার্শ্ববর্তী কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে, তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহফুজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বয়স কম হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীরা বজ্রপাতের শব্দে ভয় পেয়েছে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজন এবং সহপাঠীদের চিৎকারে ভয়টা আরও বেড়েছে। তবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থীদের কেউই তেমন কোনো খারাপ অবস্থায় নেই। পরবর্তীতে যদি কাউকে গুরুতর মনে হয়, তাহলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)