ভিড় না করার নির্দেশনা বিএনপির
এভারকেয়ারের সামনে ‘খালেদা প্রেমীদের’ ভিড়
প্রকাশিত:
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:২৬
আপডেট:
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৫০
বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার ভিড় না করার অনুরোধ সত্ত্বেও এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছেন খালেদা জিয়ার সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নেত্রীকে একনজর দেখার সুযোগ না থাকলেও স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন তারা। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসুস্থতার খবর ঘিরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং প্রার্থনাই এখন ‘খালেদা প্রেমীদের’ প্রধান ভরসা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি–অবনতির দোলাচল চলমান। এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা নিয়ে গঠিত বহুজাতিক মেডিকেল বোর্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, পরিবারের ভেতর ও বাইরে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সামনে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহীদের আনাগোনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা আসে—ভিড় না করতে, হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ না করতে এবং চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি না করতে। তবুও শনিবার ও রোববার সকালে এভারকেয়ারের সামনে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ঠিক সামনেই কঠোর সতর্কতায় অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশেই লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে আছে টেলিভিশন সাংবাদিকদের ক্যামেরা স্ট্যান্ড। ফুটপাত আর সড়কের একাংশজুড়ে অবস্থান নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলটির কর্মী-সমর্থকরা, যাদের কেউই সরাসরি হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেন না, কিন্তু তারা মনে করছেন—এই কাছাকাছি অবস্থানটুকু যেন দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে করা একটি নীরব উপস্থিতি।
উনি ভালো হোক—এই একটাই দোয়া
হাসপাতাল গেটের সামনে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকজন সমর্থককে দেখা গেছে। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ আবার হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকায় এসে পড়েছেন।
নাজমুল আলম নামক এক নেতা বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী মৃত্যুশয্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চাইলেই আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। গতকালও গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে ছিলাম। আত্মার টানে আজ আবারও সকালে চলে এসেছি। হাসপাতালের ভেতরে ঢুকার সুযোগ নেই, তাই দূরে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু মন টানলে বাসায় থাকা যায় না।
আরেকজন জানান, উনার শারীরিক অবস্থা ওঠানামা করছে বলে শুনেছি। যেটুকু পারি—দোয়া করছি।
দুইদিন ধরে হাসপাতালের সামনে বসে আছেন কিশোরগঞ্জ থেকে আসা টিপু সুলতান নামক এক খালেদাপ্রেমী, খালেদা জিয়াকে ফুসফুস দিয়ে হলেও বাঁচাতে চান তিনি। তার দাবি, প্রয়োজনে নিজের ফুসফুস দিয়েও খালেদা জিয়াকে বাঁচাতে রাজি তিনি। পরিবার, ব্যবসা, থাকার জায়গা—সবকিছুর বাইরে এখন তার একমাত্র লক্ষ্য নেত্রীর সুস্থতা।
টিপু সুলতান জানান, ফেসবুক ও ইউটিউবে খবর দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। সকালে নিজের ছোট দোকান খুলে দিয়ে দুপুরের পরই ট্রেনে রওনা হন ঢাকার উদ্দেশে। ৪টার ট্রেনে সিট না পেলেও দাঁড়িয়ে আসেন। বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে সরাসরি চলে আসেন এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে।
তার ভাষায়, খালেদা জিয়া যদি বাঁচেন, আর ডাক্তাররা যদি বলেন আমার ফুসফুস কাজে লাগবে, আমি দিতে রাজি। আল্লাহ আমাকে যতটা শক্তি দিয়েছে—সবটুকুই দেব।
নেতাদের অনুরোধ—ভিড় না করতে
এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় না করতে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি। দলটি বলছে, হাসপাতালের সামনে জটলা তৈরি করলে অন্যান্য রোগী ও চিকিৎসকদের কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং চিকিৎসকদের কাজ নির্বিঘ্ন রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দেশনেত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্রিফ করবেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে ব্রিফ করবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনের অংশেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রবেশপথে ব্যারিকেড রাখা হয়েছে। কেউ দাঁড়ালেই পুলিশ অনুরোধ করছে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিড় যাতে হাসপাতালের কাজে বিঘ্ন না ঘটায়, সেটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিনের চাপ ও রোগীসেবা বজায় রাখতে পরিস্থিতি শান্ত থাকা প্রয়োজন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় যেন জরুরি সেবা বিঘ্নিত না করে, সে নির্দেশনাও অভ্যন্তরীণভাবে জোরদার করা হয়েছে।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: