বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ ২০২৬, ১২ই চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দর্শক সারিতে বসে কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অংশগ্রহণে এই কুচকাওয়াজে জাতীয় ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।
এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল। কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। প্যারেড উপ-অধিনায়ক ছিলেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম।
এবারের কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের নেতৃত্বে ছিলেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান। সুসজ্জিত বাহনে চড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান এবং সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র প্রদর্শনী ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়া আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাস্ট এবং দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ‘ফ্রিফল জাম্প’ কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে, যার নেতৃত্বে ছিলেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও সরাসরি সম্প্রচার করে।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে স্বাধীনতা দিবসের চেতনা সংবলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের ছবিও প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের বিশেষ সহযোগিতা ছিল।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)