বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯শে মাঘ ১৪৩২


পূর্বের দুজন সিইসি কারাগারে, আপনাকে কতটা ভাবায়?

কমিটমেন্ট ফোকাসে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই : সিইসি


প্রকাশিত:
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২১

আপডেট:
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২০

ছবি : সংগৃহীত

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে আমাদের যে কমিটমেন্ট ছিল, সেগুলোকে ফোকাসে রেখেই নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছি, সেটাকেই ফোকাসে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন করবো—ইনশাআল্লাহ।

আগের দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখন কারাগারে। সেই বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনাকে কতটা ভাবায়, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা ছিল, সে অনুযায়ীই কাজ করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।

তিনি বলেন, কমিশন শুরু থেকেই আস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর দিয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

সিইসি জানান, দেশব্যাপী হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি।

তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কাজে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদার সহযোগিতা করেছে।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সীমিত সময়ের মধ্যেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন বলে জানান সিইসি। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালট ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানান সিইসি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক এবং ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনেই কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top