শুক্রবার, ১৪ই জুন ২০২৪, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১


দম ফেলতেও কষ্ট হচ্ছে তাদের


প্রকাশিত:
৭ জুন ২০২৩ ১৯:৩৪

আপডেট:
১৪ জুন ২০২৪ ০৮:০২

 ফাইল ছবি

রাজধানীর শান্তিনগর থেকে মালিবাগ মোড় হয়ে মগবাজার রেলগেট পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে এসেছেন এরশাদ আলী নামের একজন রিকশাচালক। যাত্রী নামিয়েই তিনি রিকশার সিটের কভার তুলে বের করলেন পানির বোতল।

চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে ঢক ঢক করে লিটার খানেক পানি খেয়ে নিলেন। তার শার্টের বোতালগুলো খোলা, পুরো শার্টই ঘামে ভেজা। বলে উঠলেন, এই গরমে আর পারি না।

শুধু এরশাদ আলীই নয়, এমন অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া প্রত্যেকেরই। কড়া রোদ আর অসহ্য গরমে ওষ্ঠাগত তাদের প্রাণ। গরম, অতিমাত্রার দাবদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে গত কয়েকদিন ধরে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে রাজধানীতে কাজে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষ, খেঁটে খাওয়া মানুষরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন, দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে তাদের জীবনযাত্রা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দাবদাহের মধ্যেই জীবিকার তাগিদে কাজ করছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

রাজধানীর গুলশান সংলগ্ন লেকপাড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ইট ভাঙার কাজ করছিলেন ফরিদ আহমেদ নামে একজন শ্রমিক। তিনি বলেন, এই গরমে এসব ইটের কাজ করা যে কতটা কষ্টের তা বলে বোঝানো যাবে না।

গরমে এমনিতেই গা-হাত-পা সব জ্বলছে। মনে হয় সব বাদ দিয়ে গোসল করি, ফ্যানের নিচে গিয়ে শুয়ে থাকি। কিন্তু কিছু করার নেই এসব সহ্য করেই কাজ করতে হচ্ছে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর গরমের জ্বালা সহ্য করে যা টাকা পাই তা দিয়েই বাজার করে পরিবারসহ খাই তিন বেলা। তবে কাজ না করলে খাবার যেহেতু জুটবে না, তাই গরমে জ্বলে পুড়ে গেলেও কাজ করে খেতে হবে।

রামপুরা এলাকা থেকে রিকশায় যাত্রী নিয়ে শাহজাদপুর এসেছেন রিকশাচালক আব্দুল মালেক মিয়া। তিনি বলেন, ঘামে পুরো গোসল হয়ে গেছে। যাত্রী টানতে টানতে গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নেওয়া লাগছে, পানি খাওয়া লাগছে। ঢাকা শহরে এত গরম কখনই দেখিনি। দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। গরমে কষ্ট যন্ত্রণা আমাদের বেশি পোহাতে হচ্ছে কারণ আমরা রাস্তায় আছি, জীবিকার তাগিদে ঘামের শরীর নিয়েই রিকশা চালাচ্ছি। যেই মেসে থাকি সেখানে রাতে ফিরি কিন্তু সেখানেও কষ্ট কারণ কারেন্ট থাকে না, তিন দিন ধরে পানি নেই। যে কারণে রাতে ঘুমও হয়নি। সব মিলিয়ে ক্লান্ত শরীরে গরমের যন্ত্রণা সহ্য করেই রিকশা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণের কাজ করেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসা বাড়ির ময়লা টানা আমাদের কাজ। ভ্যান লোড করে ময়লা নিয়ে আমরা ফেলে আসি।

কিন্তু গত দুই তিন ধরে এত গরম যে ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। ময়লার তীব্র গন্ধের সঙ্গে নিজের শরীর দিয়েও ঘাম ঝড়ে ভিজে যাচ্ছে, পিপাসা লাগছে, থামছি একটু। আবার কাজ করে যেতে হচ্ছে। গরমে এত কষ্ট আগে কখনও পাইনি। গায়ে জামা-কাপড় রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু দিনের ময়লা দিনেই সরিয়ে ফেলা আমাদের কাজ। তাই বাধ্য হয়ে গরমের যন্ত্রণার মধ্যেই এসব কাজ করতে হচ্ছে। অভাব অনটনের সংসার না হলে এত গরমের মধ্যে এই কষ্টের কাজ করতাম না।

গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের পাশে ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন শফিকুল ইসলাম নামের একজন সবজি বিক্রেতা। তিনি বলেন, রাস্তায় আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না গরমে। সবজিগুলোও সব গরমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এত গরম আগে কখনও দেখিনি। এর মধ্যেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাকে বিক্রি করতে হচ্ছে, এটাই আমার জীবিকা। সংসারে স্ত্রী, দুই সন্তান আছে।

আমার রোজগারের ওপরেই সংসার চলে, তাই ঘেমে ভিজে রোদের মধ্যে ভ্যান নিয়ে ঘুরে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। গরমে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। তাই একটু পর পর পানি খাই কিন্তু পানিও গরম। বাসায় গিয়েও দেখছি পানি নেই লাইনে, তখন আর গোসল, বাথরুম কিছুই হয় না। সেই সঙ্গে একটু পর পর বিদ্যুৎও চলে যায়। সব মিলিয়ে কষ্টের শেষ নেই।


সম্পর্কিত বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top