শনিবার, ২রা মে ২০২৬, ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জাল ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনেছে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল।
শনিবার (২ মে) কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ আনেন।
তিনি বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি। ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনে অসামজস্য থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে জাল ভোট প্রদান করেছে, যা তারা ঠেকাতে পারেনি । এছাড়াও নির্বাচনের বিভিন্ন বুথে ঢুকে অনেকেই ভোট টেম্বারিং করেছে। দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ভোটার ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট আগেই দেয়া হয়েছে গেছে, যা অনাকাংখিত।ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে-ধাপে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ঐতিহ্য নিয়ম ও রেওয়াজ অনুযায়ী দুটি প্যানেলে নির্বাচন করলে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত হন এবং উভয় প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য (৫জন ৫জন করে) দ্বারা ১০ জন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে ১০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো ২০ জন নিতে পারেন। এছাড়াও ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী বর্ষের নির্বাচনের জন্য বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সর্বমোট ৯০ জন এবং বাংলাদেশ ল' ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেল থেকে ৪১ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। যা নির্বাচনের আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছিল। যার ফলে নির্বাচন কমিশন গঠনে সমতা নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বার কাউন্সিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা দিয়ে নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহনে এ অনিয়মের কারণে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের যথাযথ যাচাই-বাছাই যথাযথ এবং ভোটার স্লিপ ছাড়াই ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে যার কারণে বহু ভোটার আইনজীবী নিজেদের ভোট দিতে এসে জানতে পারেন তাদের ভোট আগেই হয়ে গেছে! নির্বাচন প্রক্রিয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, পক্ষপাতিত্বের কারনে আইনজীবীদের নিকট এই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহনযোগ্য হয়নি। বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হবার পর ভোট গননার ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হয়। সামগ্রিক অবস্থায় ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য হয়নি।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, অনিয়মের মাঝেও যারা নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ঢাকা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ভাই-বোনদের ন্যায় সংগত দাবি আদায়ে আমরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ “সবুজ প্যানেল” তথা বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ও ১১ দলীয় জোট অতীতের ন্যায় আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো। আইন অঙ্গনের সব ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আপনাদের সাথে নিয়ে সোচ্চার থাকবো। যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোটারদের রায়কে সঠিক ভাবে প্রতিফলিত হতে দেননি তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)