রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬, ১৭ই ফাল্গুন ১৪৩২


মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবি নামাজ বন্ধ

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত:১ মার্চ ২০২৬, ১৪:২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অধিকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসায় শনিবার রাতে এশা ও তারাবি নামাজ আদায় করতে দেয়নি ইসরায়েলি দখলদার পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং অল্প কয়েকজন ওয়াক্ফ কর্মী এশার নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।

জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, চলতি রমজানের শুরু থেকে তারাবিতে ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। কিন্তু শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে এশা ও তারাবিসহ সব নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, তথাকথিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে হোম ফ্রন্ট কমান্ড রমজানজুড়ে আল-আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম থেকে শুধু প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সীমিত থাকার নির্দেশ দেয়। শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং জরুরি খাত ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই নির্দেশনা আল-আকসা মসজিদেও কার্যকর করা হয়, যদিও মসজিদটির প্রশাসন জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওয়াক্ফ বিভাগের হাতে।

শনিবার জোহরের আজানের আগে জেরুজালেমের বাসিন্দা ও ভেতরের ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে আসা অনেক মুসল্লিকে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি ওয়াক্ফ কর্মীদেরও সরে যেতে বাধ্য করা হয়। শুধু আল-আকসার প্রহরীদের দায়িত্বে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। পরে দখলদার পুলিশের নির্দেশে মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রমজানের ১১তম দিনে এশা ও তারাবিে মুসল্লিশূন্য আল-আকসার দৃশ্য অনেকের মনে ২০২০ সালের রমজানের কথা ফিরিয়ে এনেছে, যখন করোনাভাইরাস মহামারির সময় মসজিদের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রমজানে আল-আকসা বন্ধ করা একে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ এবং মসজিদটির ওপর কথিত ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপকে চুপচাপ মেনে নেওয়া উচিত নয় এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।

উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। রমজান মাসে এখানে মুসল্লিদের ঢল নামে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়