গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নবীজির শেখানো ২ আমল
প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:২৪
আপডেট:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:৫৫
জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষকে নানারকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দ্বিধা ও সংশয়ে মন আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এই কঠিন মুহূর্তে মুমিনের জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) এক অলৌকিক সমাধানের পথ দেখিয়েছেন। তিনি সাহাবিদের গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো কাজের আগে দুটি বিশেষ আমল করার শিক্ষা দিতেন (সহিহ বুখারি: ১১৬৬), যাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘ইস্তেখারা’ বলা হয়। নিচে নবীজি (স.)-এর শেখানো সেই দুটি আমল তুলে ধরা হলো।
১ম আমল: দুই রাকাত নফল নামাজ
সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে প্রথম কাজ হলো পবিত্রতা অর্জন করে (অজু করে) দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা।
নিয়ম: সাধারণ নফল নামাজের মতোই এই নামাজ পড়তে হয়। সুরা ফাতেহার সাথে যেকোনো সুরা মেলানো যায়।
নবীজির নির্দেশনা: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কারো কোনো বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু’রাকআত নামাজ পড়ে, এরপর দোয়া করে। (সহিহ বুখারি: ৬৩৮২)
২য় আমল: বিশেষ দোয়া পাঠ (ইস্তেখারার দোয়া)
নামাজ শেষ করার পর আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) ও নবীজি (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন। এরপর অত্যন্ত বিনয় ও কাকুতি-মিনতি করে হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়াটি পড়বেন। এই দোয়ার মাধ্যমেই মূলত আল্লাহর গায়েরি সাহায্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়। দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাকদিরুকা বিকুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা ভাববে) খাইরুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী, ফাকদিরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহি। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা ভাববে) শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আকিবাতি আমরী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদির লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না, সুম্মা রাদ্দিনি বিহী।
বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের ওসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ চাচ্ছি, আপনার ক্ষমতার ওসিলায় শক্তি প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ চাচ্ছি। কেননা আপনিই ক্ষমতার মালিক, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি মহাজ্ঞানী, আমি কিছুই জানি না। হে আল্লাহ! আপনার জ্ঞানে যদি এই কাজটি (এখানে নিজের উদ্দিষ্ট কাজের কথা স্মরণ করতে হবে) আমার দ্বীন, আমার জীবন-জীবিকা ও পরিণতির দিক দিয়ে কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন, সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দিন। আর যদি আপনার জ্ঞানে এই কাজটি আমার জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে এবং আমাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই কল্যাণ থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারণ করে দিন এবং তাতে আমাকে সন্তুষ্ট করে দিন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৮২)
ফলাফল বা সিদ্ধান্ত কীভাবে বুঝবেন?
নবীজি (স.)-এর শেখানো এই দুটি আমল করার পর স্বপ্নে কিছু দেখা জরুরি নয়। বরং আমলটি করার পর আল্লাহ তাআলা আপনার মনকে যেদিকে ঝুঁকিয়ে দেবেন অথবা পরিস্থিতির কারণে যে পথটি আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে, সেটিকেই আল্লাহর ফয়সালা মনে করে এগিয়ে যাবেন। এতে দুশ্চিন্তা কমে যাবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে। কারণ, আপনি বিষয়টি এখন আর নিজের কাঁধে রাখেননি, মহান রবের ওপর সোপর্দ করেছেন।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: