ইসলামের দৃষ্টিতে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ কতটা গ্রহণযোগ্য?
প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:৩১
আপডেট:
৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:১৪
মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য অন্যতম। রুচি ও চাহিদা, ব্যক্তি অনুপাতে খাবারের ধরনে ভিন্নতা থাকে। কেউ বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে থাকেন, কেউবা অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করেন। অল্প ও বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণের প্রেক্ষিতে অনেকে মনে করেন, বেশি খাওয়া শয়তানের প্রভাবের লক্ষণ! এ জাতীয় ধারণা আদৌ কোনো ভিত্তি কি রয়েছে ইসলামে?
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন মুসলমানের জন্য নীতিগতভাবে জরুরি হলো, পেটের চাহিদা কিংবা অন্যান্য প্রবৃত্তি যেন তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে না সেভাবে খাবার গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস পরিহার করাই ইসলামের শিক্ষা।
তবে যতক্ষণ পর্যন্ত অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ মানুষের শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়, ততক্ষণ তা হারাম নয়। এমনকি তৃপ্তিভরে খাওয়াও শরিয়তসম্মত। এ বিষয়ে কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।
তবে অতিরিক্ত পানহার তখনি ক্ষতিকর যখন খাবারের পরিমাণ শরীরের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ফিকহবিদরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এমনভাবে বেশি খাওয়া, যাতে শরীরে কষ্ট হয়, তা অপছন্দনীয়। আর যদি সেই অতিভোজন শারীরিক ক্ষতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তাহলে তা নিষিদ্ধও হতে পারে। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দাঁড়াতে বা শুতে অসুবিধা হওয়া—এগুলো ক্ষতির লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নিজের ক্ষতি হয়, এমন পরিমাণে খাওয়া বৈধ নয়। কারণ ইসলামের নীতি হলো, নিজের কিংবা অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। এই পর্যায়ের অতিভোজনকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনার ফল হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর এ ধরনের কাজের জন্য মানুষ গুনাহগার হতে পারে।
তবে কেউ যদি স্বাভাবিকভাবেই বেশি খায়, এতে তার শরীরের ক্ষতি না হয়, তাহলে সে কারণে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মোটকথা হলো, ইসলামে খাবারের পরিমাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবের প্রতি খেয়াল রেখে সংযত হয়ে খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: