নবী ঈসার (আ.) জীবনীতে মুসলমানদের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে
প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:২০
আপডেট:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:১১
হযরত ঈসা (আ.) নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। তিনি আল্লাহর কুদরতে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। আল্লাহর নবী হিসেবে তিনি পৃথিবীর মানুষকে তাওহীদের শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আসমানী শিক্ষাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়েছিলেন।
হযরত ঈসা (আ.) মুসলিমদের কাছে একজন সম্মানিত নবী। তার তাওহীদের আহ্বান এবং পবিত্র জীবনের শিক্ষা আজও মুসলমানদের পথ দেখায়।
ইসলামে নবী ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা
পবিত্র কোরআনে নবী ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর বান্দা ও সম্মানিত রাসুল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে কখনোই ঐশ্বরিক সত্তা বলা হয়নি। তিনি আল্লাহতে বিশ্বাসী, সতী ও কুমারী মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন অলৌকিকভাবে। পরবর্তীতে আল্লাহর অনুমতিক্রমে অন্ধকে সুস্থ করা, মৃতকে জীবিত করার মতো মু‘জিজা লাভ করেন।
তার নবুয়তের মূল আহ্বান ছিল আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন এবং তার বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন। মানুষকে হালাল ও পবিত্র পথে আহ্বান জানানো এবং হারাম ও অনৈতিকতা থেকে সতর্ক করা ছিল তার দাওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি মানুষকে দুনিয়াবি স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে চিরস্থায়ী সত্যের দিকে ডাকতেন। এই সত্য আজও আল্লাহর ওপর ঈমান ও বিশ্বাসের মূল।
পবিত্র জীবনযাপন
নবী ঈসা (আ.)-এর শিক্ষার কেন্দ্রে ছিল পবিত্রতা, দেহের, আত্মার এবং ভোগ্যবস্তুর। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানুষ, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮)
ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, মানুষ যা গ্রহণ করে, তা তার আত্মিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীতে প্রেরিত সব নবীর মতো নবী ঈসাও (আ.) যেমন হালাল ও হারামের সীমারেখা স্পষ্ট করেছিলেন, আজকের মুসলমানরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছ থেকে অন্য সব নবীর শিক্ষা গ্রহণ করে সেই ধারাবাহিকতায় নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেন।
হালাল জীবনধারা
হালাল শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। সততা, নৈতিক উপার্জন, শালীনতা ও ব্যক্তিত্ব, সবই হালালের অন্তর্ভুক্ত। হালাল খাবার গ্রহণ, হালাল সার্টিফায়েড পণ্য ব্যবহার এবং ব্যবসায় নৈতিকতার চর্চা, এসবের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা আল্লাহর প্রেরিত সব নবী, নবী ঈসা (আ.) ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটান।
আধুনিক সময়ে প্রেরণার উৎস
আজকের বিশ্বে হালাল জীবনধারা অনুসরণ সহজ নয়। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যে গোপন উপাদান, সব মিলিয়ে মুসলমানদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, এটি কি বৈধ, এটি কি পবিত্র। এমন সময়ে আল্লাহর প্রেরিত সব নবী, নবী ঈসা (আ.) ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অবিচল আনুগত্য মুসলমানদের সাহস জোগায়। তারা শিখিয়েছেন ঈমান কখনো সুবিধার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, দাঁড়িয়ে থাকে দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর।
হালাল সার্টিফিকেশন খোঁজা, নৈতিকভাবে উৎপাদিত পণ্য বেছে নেওয়া এবং দুনিয়াবি লোভের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এসবের মাধ্যমে মুসলমানরা নিজেদের আত্মিক সুস্থতা রক্ষা করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে থাকেন।
নবী ঈসা (আ.)-এর বার্তার চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা
আল্লাহর প্রেরিত সব নবীর মতো নবী ঈসাও (আ.) এমন এক বিশ্বাসের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছিলেন, যা সময় ও স্থানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। মুসলমানদের কাছে সব নবীর মতো তার জীবন একদিকে যেমন স্থিরতা এনে দেয়, তেমনি অনুপ্রেরণাও জোগায়। কারণ সব নবীরই অভিন্ন মিশন ছিল—মানুষকে হালাল ও তাইয়্যিব, অর্থাৎ পবিত্র ও কল্যাণকর জীবনের পথে পরিচালিত করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যা তিনি রাসুলদের দিয়েছেন।
হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো। (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫১)
হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)
শেষ কথা
নবী ঈসা (আ.)-এর জীবন শুধু ইতিহাস নয়; এটি আজও মুসলিমদের জন্য পবিত্রতা, সত্যনিষ্ঠা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের জীবন্ত দৃষ্টান্ত। কোরআনের ভাষায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তারই ইবাদত করো, এটাই সরল পথ। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৫১)
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: