মাহফিলের আজানে মসজিদে জামাত করা যাবে?
প্রকাশিত:
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:২০
আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:১৮
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য পাঁচবার আজান দেওয়া হয় প্রতিদিন। মসজিদের মাইকেই সাধারণত আজান দেওয়া হয়। আজানের জন্য আলাদা মুয়াজ্জিন থাকেন প্রায় সব মসজিদে। বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শীত মৌসুমে মাহফিলের আয়োজন বেশি হয়।
মসজিদ সংলগ্ন মাঠে মাহফিলের আয়োজন হলেও মসজিদেই আজান দেওয়া হয়। তবে যদি কখনো মসজিদ সংলগ্ন মাহফিলের মঞ্চের মাইক থেকে আজান দেওয়া হয়, তাহলে সেই আজানে মসজিদে জামাত করা যাবে কিনা?
এ বিষয়ে ফেকাহবিদেরা বলেন, যদি কোন এলাকায় আজান হয়, তাহলে ওই আজানের আওয়াজ যতদূর পর্যন্ত যাবে ততদূর মানুষ জামাত করতে পারবে। অর্থাৎ ওই আজানই ধর্তব্য হবে, আর অন্যরা ওই আযান দিয়ে নিজেরা জামাত করতে পারবে।
কিন্তু মসজিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একটু ভিন্ন। মসজিদের জন্য আলাদা ইমাম মুয়াজ্জিন থাকা, জামাতে নামাজ হওয়া, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান হওয়া উত্তম ও জরুরি। মসজিদে আজান না হলে মসজিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। তাই মসজিদে আজান অব্যাহত রাখতে হবে।
আলেমদের মতে, যদিও মাহফিলের আজান দিয়ে অন্য বিভিন্ন জায়গায় জামাত করা জায়েজ আছে, কিন্তু মসজিদের ক্ষেত্রে এমনটি করা মাকরুহ। মসজিদের আজান সব সময় অব্যাহত রাখা জরুরি।
নামাজের জন্য আজান-ইকামতের বিধান
নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি। এছাড়াও তা ইসলামের অন্যতম নিদর্শন বহন করে। জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য ইকামত দেওয়া সুন্নত। একাকী ফরজ নামাজ আদায় করলে ইকামত দেওয়া মুস্তাহাব। এজন্য ফরজ নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে আজান ও ইকামতের গুরুত্ব অপরিসীম।
আজানের পর দোয়া পড়ার ফজিলত
আজান শেষে দোয়া পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যে ব্যক্তি বলবে,
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺪَّﻋْﻮَﺓِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻤَﺔِ، ﺁﺕِ ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﺍﻟْﻮَﺳِﻴﻠَﺔَ ﻭَﺍﻟْﻔَﻀِﻴﻠَﺔَ، ﻭَﺍﺑْﻌَﺜْﻪُ ﻣَﻘَﺎﻣَﺎً ﻣَﺤﻤُﻮﺩﺍً ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻭَﻋَﺪْﺗَﻪ
উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-জিহিদ দা‘ওয়াতিত তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-য়িমাতি, আ-তি মুহাম্মাদান আল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা, ওয়াব‘আসহু মাকা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়াআদতাহ’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই প্রভু! মুহাম্মদ (স.)-কে অসিলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফজিলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।’ (বুখারি: ১/২৫২,নং ৬১৪)
তার জন্য কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত পাওনা হয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস :২২২)
সম্পর্কিত বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: