রবিবার, ৮ই মার্চ ২০২৬, ২৪শে ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জুলাই সনদ প্রস্তুতে যারা ভূমিকা রেখেছেন তারা সম্মিলিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিতে পারেন। রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে পারি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় সবাই ক্লান্ত, তাই নতুন করে সংঘাত নয়। বরং দেশ রক্ষায় ঐক্যের পথই বেছে নেওয়া উচিত।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আরেকটি সংগ্রাম লড়াই গণঅভ্যুত্থান আপনাদের বিরুদ্ধে করতে চাইও না। কারণ, আপনার রক্তের দাগ আমার শার্টে আছে। আমার রক্তের দাগ আপনার মাফলারে আছে। আমরা একসঙ্গেই লড়াই করেছি। একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। একসঙ্গেই সংগ্রাম করেছি। একসঙ্গে কারাগারে ছিলাম। একই হ্যান্ডকাফ ভাগাভাগি করে দুই হাতে পড়েছি। সুতরাং বাংলাদেশকে আমাদের বাঁচাতে হবে।
নাগরিকরা আসলে একটা স্বস্তির চায় জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকেরা আমাদের কথা এবং কাজের মিল চায়। সেজন্য আমি এখানে একটা সমঝোতার প্রস্তাব রাখছি। আমি মনে করি না, জুলাই সনদ পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে। জুলাই সনদের এমন কোনো ধারা নাই যেটা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতিকে দুর্বল করবে। বরং জুলাই সনদ আমাদেরকে একটা সুন্দর বাংলাদেশের যাত্রা শুরুতে উদ্বুদ্ধ করবে। সুন্দর একটা বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য একটা নতুন পথ দেখাবে।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে কী ভুল করেছি? অতীতে আমাদের অনেক ব্যর্থতা আছে। অতীতে আমাদের অনেক ত্রুটি আছে। সবকিছুকে আমি মনে করি পেছনে রেখে আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। সেজন্য আমার সেই প্রস্তাবটি আমি দিচ্ছি। আমরা সবাই মিলে বিএনপির কাছে বলতে পারি, আপনারা এই সমঝোতা প্রস্তাবটি গ্রহণ করুন। এটার জন্য আমরা একটা সময় বেঁধে দিতে পারি। যদি সেই সমঝোতা প্রস্তাব ওনারা গ্রহণ না করেন, ওনারা যদি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই সনদকে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন করে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু না করেন, তাহলে যে বিভেদটা হবে এই বিভেদের দায় জনতার আদালতে আমরা সরকারি দলের উপর দিতে বাধ্য হবো।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)