বিকেল গড়াতেই বড় বড় কড়াইয়ে চড়েছে তেল। কোথাও ভাজা হচ্ছে মচমচে বেগুনি-আলুর চপ, কোথাও হাঁড়িতে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে হালিম আর তেহারি। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড়ে ততই মুখর হয়ে উঠছে রাজধানীর গুলশান এলাকা।
পবিত্র রমজান ঘিরে গুলশান-১ ও ২ নম্বর এলাকায় এখন জমজমাট ইফতারের বাজার।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে শুরু করে নামিদামি রেস্তোরাঁ– সবখানেই পরিবারের জন্য ইফতার কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
এসব এলাকায় দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তাঘাটে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও ইফতারের দোকানগুলোতে ক্রেতার কমতি নেই। বিকেল তিনটার পর থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। স্টলগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে খেজুর, ফলের চাট, ছোলা ভুনা, হালিম, তেহারি ও জিলাপি। অনেক দোকানে বোতলজাত শরবত, বোরহানি ও ফ্রেশ জুসের জন্য আলাদা কাউন্টার দেখা গেছে। পাশাপাশি রাস্তার ফুটপাতেও বসেছে হরেক রকমের ইফতারের আয়োজন।
গুলশান-১ নম্বরের মেজোবান ডাইনে বিভিন্ন প্যাকেজে ইফতার বিক্রি করা হচ্ছে। এখানকার ‘মেজোবান গরু সেট’ বিক্রি হচ্ছে ৮৬৫ টাকায়। এই প্যাকেজে রয়েছে- চিয়া সিড ফিউশন ড্রিংকস, আপেল ও মাল্টা শরবত, খেজুর, ছোলা ভুনা, পাঁপড় ভাজি, ফিটকিরি রিফ্রেশ ড্রিংক, পানি, ফ্রেশ জুস, মেজবানি গরু, মেজবানি চানা ডাল ও সালাদ। একই উপাদানসহ ‘কালাভুনা সেট’ মিলছে ৮৬৭ টাকায়। এছাড়া বিফ তেহারি সেট ৮৮০ টাকা এবং মেজবানি নলা সেট ৮৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গুলশান-১-এর পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টে মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে– হালিম ও ঘি-এ ভাজা জিলাপি। ১ কেজি স্পেশাল হালিম ১ হাজার টাকা, ৭০০ গ্রাম ৭০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের প্যাকেজ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এখানকার বোম্বে জিলাপি ৪৮০ টাকা ও রেশমি জিলাপি ৬৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
গুলশান-১ ও ২-এর মাঝামাঝি অবস্থিত বিয়ন্ড বুফে রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মী মো. রিফাত জানান, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুণগত মান ঠিক রেখে তারা কাবাব ও রাইস আইটেমসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী তৈরি করছেন। এছাড়া এলাকার ফলের দোকানগুলোতেও মৌসুমি ও বিদেশি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।
ইফতার কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আলাল বলেন, ‘গুলশানের বাজারে ইফতারের দাম কিছুটা বেশি হলেও মানের প্রতি আস্থা আছে। তাই পরিবারের জন্য এখান থেকেই ইফতার কিনছি।’ বিক্রেতারা জানান, রোজার প্রথম সপ্তাহেই বিক্রি আশানুরূপ, তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভের হার আগের চেয়ে কমেছে।
এদিকে ইফতারের আগ মুহূর্তে গুলশান-১ ও ২ নম্বরের সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়কে তৎপর রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।