47868

02/18/2026 ৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

৪টা ডিমের দামেও একটি লেবু মিলছে না

অর্থনীতি ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০১

পবিত্র রমজান শুরুর ঠিক আগের দিনই অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার। আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় যখন ঘরে ঘরে প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রোজায় প্রয়োজনীয় পণ্য লেবু। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কয়েক গুণ বেড়ে এখন রীতিমতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজারে তিন ভিন্ন আকার ও ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ছোট আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। মাঝারি আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় এবং বড় আকারের লেবু ১২০ টাকা হালি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাড়তি দামের কারণে এক হালি না কিনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেককে দুই-একটি করে লেবু কিনতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতারা নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা; বড় আকারের একটি লেবু কিনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।

মুগদা বাজার থেকে লেবু কেনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে ভ্যানচালক শিমুল মোল্লা বলেন, আমার ৫ বছরের মেয়েটা লেবুর শরবত খেতে পছন্দ করে। প্রথম রমজানের ইফতারে মেয়েটার মন রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে ৪০ টাকা দিয়ে একটি লেবু কিনলাম। একটা লেবুর দামে এক হালি (৪টি) ডিম কিনতে পারতাম, যা দিয়ে আমার সংসারের একদিনের বাজার হয়ে যেত।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতি হালি লেবু মানভেদে ২০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই দাম এখন ১২০ টাকায় ঠেকেছে। সে হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ৬ গুণ। আর খুচরা একটি লেবু ৪০ টাকা দরে কিনলে এক হালির দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে রোজা উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর পরিমাণ কম থাকায় দাম দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বাড়িতে বাড়তি মজুত করায় ব্যবসায়ীরা এই কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকে ফ্রিজে অধিক পরিমাণ লেবু মজুত রাখছেন। অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই অনেকে বেশি পরিমাণ লেবু কিনে নেওয়ায় বাজারে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতি বছর রোজা শুরুর আগে এসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এই সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকান।

তিনি মনে করেন, ক্রেতারা একদিনের পরিবর্তে ১০ দিনের পণ্য একত্রে কেনেন, যে কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়ানোর সুযোগ পান। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]