47714

02/14/2026 ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে শক্তিশালী জাতীয় শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াত জোট

৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে শক্তিশালী জাতীয় শক্তিতে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াত জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪২

বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিই এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় ভোটের ফলাফল একটি আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের বর্তমান 'ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট' পদ্ধতিতে লক্ষ লক্ষ ভোট কাঠামোগতভাবে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। ৫৩টি আসনে বিএনপি মাত্র কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসন বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আমরা আইনের আওতায় বৈধ সকল পন্থায় প্রচেষ্টা চালাবো। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট যেসব আসনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা।

গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা অপরিহার্য উল্লেখ করে বলেন, যেখানেই ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আমাদের প্রতিনিধিগণ আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারে চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অবশ্যই সঠিকভাবে গণনা করা এবং প্রতিটি সংগত উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে যাচাই করা জরুরি। জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করার উপর।

ত্যাগ-কুরবানি ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ এবং গণভোটে ৪ কোটি ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন “হ্যাঁ” এবং ২ কোটি ২,৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন “না” ভোট দিয়েছেন, যাতে প্রায় ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কারের পক্ষে এসেছে। এটা পরিবর্তনের জন্য স্পষ্ট একটি জাতীয় ম্যান্ডেট। আমরা আশা করি, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করবে। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তারা যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার প্রত্যাশা, যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই তারা যেন শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে। একইসঙ্গে, আমি বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন যে তারা সংবিধানের নিয়মের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করবেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

এই মুহূর্তে পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রয়োজন উল্লেখ করে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করি, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করি এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখি, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয় সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]