আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ২ শতাংশ কোটা, সংসদে কমপক্ষে ১ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় সরকারে সংরক্ষিত আসন চালু করাসহ প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এক গুচ্ছ দাবি উপস্থাপন করেছে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে “ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সদস্য সচিব খন্দকার জহুরুল আলম ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠান দুইটির শীর্ষ কর্তা-ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বেশি জনবান্ধব হয়েছে এবং দেশের আপামর জনসাধারণের সমস্যা এবং তাদের উন্নয়নের পথে বাধাগুলো অনেক বেশি গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা এখনো নানা ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা ও দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠন দুইটি জানায়, জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (সিআরপিডি) বাংলাদেশ ২০০৭ সালে অনুমোদন করে। এর আলোকে ২০১৩ সালে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং ২০১৯ সালে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি খুবই সীমিত। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
আইন অনুযায়ী জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোর কার্যক্রম সক্রিয় করা।
রুলস অব বিজনেস সংশোধন করে প্রতিবন্ধিতা বিষয়কে সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় আনা।
জুলাই বিপ্লবের পর সরকারি চাকরিতে প্রায় সকল কোটা বন্ধ হয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী মানুষ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সম্মিলিতভাবে ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। সেখানে কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ২% কোটা রাখা হোক।
আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া।
এসডিজি সূচক ও জাতীয় জরিপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগঠনটি জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে প্রবেশগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা যেমন- গাইড নিয়ে ভোটদান, যানবাহন ব্যবহার ও নিচতলায় বিশেষ বুথ— এসব বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।