41878

08/31/2025 একে একে না ফেরার দেশে একই পরিবারের ৭ জন

একে একে না ফেরার দেশে একই পরিবারের ৭ জন

জেলা সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩২

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আসমা বেগম (৩৫)। এ নিয়ে একই পরিবারের সাতজনের জীবন প্রদীপ নিভে গেল।

এর আগে মারা যান আসমার মেয়ে কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তার তিশা (১৭), আসমার বোন সালমা বেগম (৩০), ভায়রা হাসান গাজী (৪০), তার চার বছরের মেয়ে জান্নাত, এক মাস বয়সী শিশু ইমাম উদ্দিন এবং নানি তাহেরা আক্তার (৫৫)।

হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শোক আর বেদনায় ভেঙে পড়া পরিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আরাফাত হোসেনের বাবা তানজিল হোসেন তাঞ্জু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে হওয়া বিস্ফোরণে আমার স্ত্রী আসমা বেগম আর আমার মেধাবী কলেজ পড়ুয়া মেয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমার শ্যালিকা, ভায়রা, তাদের সন্তানরা, এমনকি স্ত্রী ও শালিকার মাকেও কেড়ে নিয়েছে। একে একে পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

তিনি আরও জানান, স্ত্রীর আসমা আক্তারের মরদেহ নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার চকবদন গ্রামে রওনা হয়েছেন। কলেজছাত্রী মেয়ের কবরের পাশে তাকেই দাফন করা হবে।

মেধাবী ছাত্রীর অকাল মৃত্যু নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তানজিলা আক্তার তিশা সহপাঠীদের কাছে ছিলেন মেধাবী ও প্রাণবন্ত। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ২ শিশু

এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে দুই শিশু—আসমার ছেলে আরাফাত হোসেন (১৫) ও হাসানের মেয়ে মুনতাহা (১১)। মুনতাহা হারিয়েছে বাবা, মা, ভাই-বোনসহ চারজনকে। অন্যদিকে আরাফাত হারিয়েছে মা ও বড় বোনকে। তাদের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এর আগে ২২ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল আবাসিক এলাকার জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে দুটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা নয়জন নারী ও শিশু দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে বিতর্ক

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাড়ির নিচ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের মোটা পাইপলাইনে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল। ওই পাইপ থেকে গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যেত এবং অতীতে ছোটখাটো আগুনও লেগেছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ—গ্যাস কোম্পানির অবহেলাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।

তবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বাড়িটির গ্যাস লাইন বৈধ। পরিদর্শনে কোনো লিকেজ পাওয়া যায়নি।’

আদমজী ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মীরন মিয়াও জানান, ‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাস লিকেজের প্রমাণ মেলেনি। তবে বিস্তারিত তদন্তে একটি কমিটি গঠন হতে পারে।’

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]