বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ঘরের মাঠে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ নিয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের মাঠে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
এরপর নিকট ভবিষ্যতের সূচিতে ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ নেই। তাই ভেনেজুয়েলা ম্যাচটি মেসির শেষ হোম ম্যাচ হতে পারে বলে তিনি নিজেও পরিকল্পনা শুরু করেছেন। সেদিন হাজির হবেন পুরো পরিবার নিয়ে।
স্ত্রী–সন্তান ও পরিবার নিয়ে সেদিন মাঠে হাজির হওয়ার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এটি আমার জন্য খুব বিশেষ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে, কারণ এটাই শেষ বাছাইপর্বের ম্যাচ। এরপর (আর্জেন্টিনায়) আর কোনো প্রীতি ম্যাচ বা অন্য কোনো খেলা থাকবে কি না জানি না। তাই সেদিন আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাইবোনসহ পুরো পরিবার আমার সঙ্গে থাকবে। আমরা সেভাবে উপভোগ করব। এরপর কী হবে আমি জানি না।’
অবশ্য মেসির মন্তব্যে ঘরের মাঠে তিনি শেষবার নামবেন বলে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত নেই। এরপর আবার সেখানে খেলতে পারবেন কি না সেই অনিশ্চয়তাও ফুটে উঠেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকা থেকে তারাই প্রথম দল হিসেবে মেগা ইভেন্টটির টিকিট পেয়েছে। আগামী শুক্রবার বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলাকে আতিথ্য দেবে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির কথিত সেই ‘বিশেষ ম্যাচ’ নিয়ে এই আর্জেন্টাইন কোচও কথা বলেছেন।
সংবাদমাধ্যম টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের স্বভাবই এরকম যে সবসময় একটু বিষণ্ণতায় ভুগি, মূলত সময়টা উপভোগ করা উচিত। ফিদেও’র (আনহেল ডি মারিয়া) ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল…যতদিন ওকে (মেসি) পাচ্ছি, ততদিন উপভোগ করতে হবে। ভবিষ্যতে যা ঘটার ঘটবে। কিন্তু এখন উপভোগ করার সময়, সে নেই– এটা ভেবে বা কবে (অবসরের) ঘোষণা দেবে সেই অপেক্ষায় থাকা উচিত নয়।’
মেসি অবসরের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত–ই নেন তাতে সমর্থন দেওয়ার কথা জানালেন এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ, ‘মেসি শুধু আর্জেন্টাইনদের জন্য নয়, ফুটবল বিশ্বের জন্যও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখনই তার উপভোগ করা জরুরি, ভবিষ্যতে কী হবে সেটা নিয়ে বেশি ভাবা উচিত নয়। আমরা কোচিং স্টাফ হিসেবে এবং সতীর্থরা চেষ্টা করি যেন ওর প্রতি অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হয়। আমার জন্যও খেলা ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। এটা কঠিন সময়। সিদ্ধান্তের অধিকারটা মেসির আছে, সে নিজেই ঠিক করবে কবে থামবে। আমাদের পক্ষ থেকে সবসময়ই ওর প্রতি সমর্থন থাকবে।’
এদিকে, নিজের শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে যোগ দিয়েছেন ডি মারিয়া। সম্প্রতি নিউওয়েলসের বিপক্ষে ফ্রি-কিকে করা তার গোল নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘(গোলটি) দেখেছি…নিউওয়েলসের (স্কালোনির ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ক্লাবটির হয়ে) সঙ্গে গোল করল…মিশ্র অনুভূতি। আমি ওর জন্য খুব খুশি, যদিও সেটা নিউওয়েলসের বিপক্ষে। আগেই বলেছিলাম সে সেন্ট্রালের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সে অসাধারণ, ভীষণই আন্তরিক একজন মানুষ। ওর জীবনের গল্পের মতোই যেন ফিরে আসা এবং এমন একটা গোল করা। যা ফিদেও এবং ওর সমর্থকদের জন্য দারুণ আবেগঘন মুহূর্ত।’