শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১০ই বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের জন্য রাত ২টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক শিপুল। রাতে ঘুমিয়েছেন গাড়িতেই, খাওয়া-দাওয়াও সেখানেই। সব খরচ দিয়েছেন গাড়ির মালিক। কিন্তু ১২ ঘণ্টা এই অপেক্ষা করার মতো অমানবিক কাজটির কি কোনো মূল্য হবে?
আজ (বুধবার) তেজগাঁও লিংক রোডের শিকদার ফিলিং তখন ঘড়িতে সময় দুপুর দেড়টা। তিনি তখন ফিলিং স্টেশনের ঠিক সামনে।
শিপুল বলেন, ‘এখন অপেক্ষা করাটাও একটা কাজের অংশ হয়ে গেছে। ১২ ঘণ্টায় পৃথিবীতে অনেক কাজ করা যায়। আর আমরা অপেক্ষা করছি গাড়ির তেলের জন্য।’
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ আছে। আবার কিছু কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি চলমান আছে। তেল বিক্রি চলুক বা না চলুক, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে অন্তত একশ গাড়ির সিরিয়াল আছেই।
রাজধানীর ডিআইটি রোডের হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনটিতে ডিজেল ও অকটেন নেই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সেখানের কর্মীরা জানিয়েছেন, যদি ডিপো থেকে তেলের গাড়ি আসে তাহলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি শুরু হবে। কিন্তু তেলের জন্য তখন থেকে গাড়ি নিয়ে লাইনে রয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। লাইনের শেষ প্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩০০ মিটার দূরে।
এরপর তেজগাঁও লিংক রোডের আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কর্মীরা স্টেশনে ঢোকার পথ শিকল দিয়ে আটকে রেখেছে। একটি সাইনবোর্ডে লিখে রাখা হয়েছে, ‘আমাদের অকটেন ও ডিজেল ডিপো থেকে আসলে দেওয়া হবে, ধন্যবাদ।’
তখনই তেল নেওয়ার জন্য গাড়ির লাইন গিয়ে ঠেকেছে এক কিলোমিটার দূরে হাতিরঝিলের ভেতরে।
এটা আমাদের জন্য ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে থাকতে কারও ভালো লাগে না। সংসদে মন্ত্রীরা বলেন তেল আছে। কিন্তু আমাদের লাইনে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাদের কথাই মিথ্যা নাকি আমাদের অপেক্ষা মিথ্যা, বুঝে আসে না।’
একই রোডের শিকদার ফিলিং স্টেশনে তখন তেল বিক্রি চলছিল। কিন্তু তেল নিতে গাড়ির সারি তখন নাবিস্কো রোডে। এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ এভিনিউ রোডের সাউদার্ন অটোমোবাইলসে তখন তেল বিক্রি করতে দেখা যায়।
গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ এক হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এ ছাড়া, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল, ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)