বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফার্মাসিস্ট ফোরামের বৈঠক

স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি-নিয়োগসহ ৬ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫১

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতালগুলোতে অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি এবং স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সরকারের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

ছয় দফা দাবি

সংগঠনটি মন্ত্রীর কাছে যে ছয় দফা দাবি পেশ করেছে, সেগুলো হলো—

১. সব সরকারি হাসপাতালে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু এবং গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে হাসপাতাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালুর দাবি জানানো হয়।

২. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি। স্বাস্থ্য প্রশাসনের মূল কাঠামোয় ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করে নীতিনির্ধারণ ও সেবায় সরাসরি ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

৩. স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি কার্যক্রমের মান উন্নয়ন ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে একটি আলাদা ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

৪. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু এবং বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে বি ফার্ম প্রোগ্রামকে ফার্ম ডি-তে রূপান্তরের দাবি জানানো হয়।

৫. সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ফার্মাসিস্ট’ ও ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইন অনুযায়ী গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকেই ‘ফার্মাসিস্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

৬. ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)-এ ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ।

কেন জরুরি বলছে ফোরাম?

সভায় ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত একজন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন। উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো অনুমোদিত পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। শিক্ষারতসহ এই সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। ওষুধ শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তারা ভূমিকা রাখলেও জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। রোগীর ওষুধ ব্যবস্থাপনায় পেশাদার নজরদারি নিশ্চিত না হলে চিকিৎসার গুণগত মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাবে না।

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

এদিন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত-এর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফোরামের নেতারা। তারা একই দাবিগুলো তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী জনসচেতনতা ও জনমত গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়