৪ মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৩২ বস্তা টাকা
প্রকাশিত:
৩০ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৩
আপডেট:
৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:০০

কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার চার মাস ১৭ দিন পর ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ১৩টি দানবাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার গয়না। এখন চলছে গণনার কাজ। গণনায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জনের একটি দল।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এবার আমরা ৪ মাস ১৭ দিন পর দানবক্স খুলেছি। এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা টাকা গণনার কাজ করছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের ৯টি দান দানবাক্স খোলা হয়েছে। দান দানবাক্সগুলো খুলে ৩২টি বস্তায় ভরে টাকাগুলো মসজিদের দোতলায় আনা হয়েছে গণনার জন্য। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।
টাকা গণনার কাজে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছীসহ ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ও পাগলা মসজিদের নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১২০ জন ছাত্র, ব্যাংকের ১০০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।
জনশ্রুতি আছে, এক সময় মসনদে আলা বীর ঈসা খাঁর বংশধর জিলকদর খান নামে এক সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতি স্থানে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। তার দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে মসজিদ হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন এলাকাবাসী।
আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান-খয়রাত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়-এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ ছুটে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, সোনা ও রুপার অলংকারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।
প্রতি জুমার নামাজের দিন এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা মানুষের ঢল নামে। পাগলা মসজিদের এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও বেশি পুরনো।
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: