শুক্রবার, ১লা মে ২০২৬, ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা তেতুলিয়া নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর টানা ২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ মধ্যরাতে। এতে হাসি ফুটেছে কর্মহীন থাকা ভোলার ৭ উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক জেলের মুখে।
অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিরচেনা হাঁকডাকের অপেক্ষায় নদী তীরবর্তী মাছের আড়ৎগুলো, তাই শেষ মুহূর্তে ধোঁয়ামোছার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়ৎদাররা। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২ মাসের (মার্চ-এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় এবং শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১২টায়।
ভোলা মৎস্য বিভাগের হালনাগাদ তথ্য মতে, ভোলার ৭ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ২২ হাজার ৪১২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ২৯৩ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৮৩৮ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন, তজুমুদ্দিনে ১৯ হাজার ৫৭২ জন, চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ৩১২ জন ও মনপুরা উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৩৮ জন। তাদের অনুকূলে মাসে ৪০ কেজি করে ৯০ হাজার ২শ জেলে পরিবারকে সরকারি খাদ্য সহায়তার ভিজিএফ চাল দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এছাড়া এবারই প্রথম ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় ১৩ হাজার ৬০০ জন জেলেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে সরকার।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ভোলার খাল ও তুলাতুলি মেঘনা তীরে ঘুরে দেখা যায়, মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়ার খবরে জাল-ট্রলার মেরামতসহ মাছ ধরার সকল সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন জেলেরা। আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে তাদের জাল-ট্রলার মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলে মো. গিয়াসউদ্দিন, শাজাহান, বশির ও জোবায়ের বলেন, নদীতে মাছ ধরার উপর ২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি, তারপরও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে নামিনি। সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল ছিল চাহিদার বিপরীতে অপ্রতুল। আসলে মাছ ধরা ছাড়া আমাদের আর কোনো পেশা নেই। আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, আমরা নদীতে গিয়ে মাছ ধরার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। রাত ১২টার পরে নদীতে নামব। আশা করি ইলিশসহ সব ধরনের বেশি পরিমাণে মাছ পেয়ে তা বিক্রির পর বিগত দিনের দেনার পুষিয়ে নিতে পারব। আর যদি কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাই তাহলে দুর্দশার শেষ হবে না।
নদীতে নিষেধাজ্ঞায় নিজেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানিয়ে আড়তদার ইমতিয়াজ আহমেদ নাসিম বলেন, ঢাকা খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে দাদন (টাকা) এনে তা জেলেদের দিয়েছি। নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারেনি ফলে আড়ৎ বন্ধ রেখেছি। নদীতে যেতে আমরাই জেলেদের নিরুৎসাহিত করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করি জেলেরা আড়তে মাছ এনে তা বিক্রির পর তাদের দেনা শোধ করবে, তাই আমরা আড়ৎ খুলে কেনাবেচার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জেলেরা নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ পেলে আশা করি আমরা সবাই লাভবান হতে পারব।
নিষেধাজ্ঞা সফল হয়েছে, সীমিত জনবল এবং অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেছেন জানিয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, আশা করছি পহেলা মে থেকে জেলেরা নদীতে গিয়ে ইলিশসহ সব ধরনের কাঙ্ক্ষিত মাছ পাবেন। নিষেধাজ্ঞার ফলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, এতে দেশ ও জাতিও লাভবান হবেন। এছাড়া এবারই প্রথম ইলিশ সম্পদ প্রকল্পের আওতায় জেলেদেরকে বিভিন্ন ধরনের সরকারি খাদ্যসামগ্রীসহ ভিজিএফ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপে গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবিও জানিয়েছেন ভোলার জেলেরা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)