রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ই ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
গাইবান্ধায় সেনা ও র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আল-আমিন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌন ২টার দিকে র্যাব-১৩ এর একটি অভিযানিক দল গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আল-আমিন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নারিকেলবাড়ি এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আল-আমিনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
তিনি জানান, সিএনজিতে যাতায়াতের সময় ভুক্তভোগী চালককে আল-আমিন জানায়, সে সেনাবাহিনীর সদস্য ও গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করে তার বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য ভুয়া র্যাব সদস্য আল-আমিনকে অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে আল-আমিন ভুক্তভোগী সিএনজিচালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন এবং তার কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেন। এরপর থেকে আল-আমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিএনজিচালক গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আল-আমিন নামে কোন র্যাব সদস্য সেখানে কর্মরত নেই। এরপর তিনি বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা করলে র্যাব তদন্ত শুরু করে।
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে র্যাব শুক্রবার দিবাগত রাতে নারিকেলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছে থাকা সেনাবাহিনীর জুতা, ব্যাগ, হ্যান্ডকাফ, সেনাবাহিনীর আইডি কার্ড, অফিসিয়াল সিল, সেনাবাহিনীর মোবাইল পাস, নেমপ্লেট, সেনাবাহিনী লেখা স্টিকার, বিভিন্ন চাকরি সংক্রান্ত ভুয়া নথিপত্র ও একাধিক সিমকার্ড উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, আল-আমিন নিজেকে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তিনি তার মোবাইলে ব্যবহৃত সিমকার্ডের নম্বরকে কর্নেল, লে. কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদের নাম দিয়ে সংরক্ষণ করে এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জমাদি দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। এরপর সমস্যা সমাধানের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)