গত জানুয়ারি মাসে দেশের সীমান্ত এলাকা ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাচালান দমনের এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি-২০২৬ মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সাফল্য এসেছে।
বিজিবির অভিযানে জব্দ হওয়া চোরাচালান পণ্যের তালিকায় রয়েছে– ৯৪০.১৭৬ গ্রাম স্বর্ণ ও ১৪ কেজি ৩৩৭ গ্রাম রৌপ্য। এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে– ২১ হাজার ২৭১টি শাড়ি, ১১ হাজার ৮৮৩টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৩ হাজার ৬০৫টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ১৮২ মিটার থান কাপড় এবং ৪ লাখ ৩ হাজার ৪২৭টি কসমেটিকস সামগ্রী। অভিযানে ২ হাজার ৫৯৫ পিস ইমিটেশন গয়নাও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, জব্দ হওয়া অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে– ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬৯টি আতশবাজি, ১১ হাজার ৪৫১ ঘনফুট কাঠ, ৮ হাজার ৯২৯ কেজি চা পাতা, ২১ হাজার ৬৫৯ কেজি সুপারি, ২৯ হাজার ৪৬০ কেজি কয়লা, ১ হাজার ২৫০ ঘনফুট পাথর, ৩৭১টি মোবাইল ফোন এবং ৩০ হাজার ৫৭৫টি চশমা রয়েছে।
গত এক মাসে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ১৪টি বিদেশি ও দেশীয় পিস্তল, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ম্যাগাজিন, ১৮৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, একটি মর্টার শেল এবং ২৮টি অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা হয়েছে– ১২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৭৩০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ১৫৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ৮ হাজার ৯৭০ বোতল বিদেশি মদ। এ ছাড়াও ১৯৮ লিটার বাংলা মদ, গাঁজা এবং বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গবাদিপশু ও যানবাহন অভিযানে– ৯৭৩টি গরু ও মহিষের পাশাপাশি একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানে ব্যবহৃত ১০টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ১২টি পিকআপ ও মহেন্দ্র, ৫টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস এবং ৫২টি মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গত এক মাসে ১৭২ জন চোরাচালানিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ১১৪ জন বাংলাদেশি, ৫ জন ভারতীয় এবং ১৫৯ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান দমনে ভবিষ্যতেও তাদের এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে।