47204

01/28/2026 আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি, গেঞ্জিতে ছিদ্র ছিল না : আসামিপক্ষের আইনজীবী

আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি, গেঞ্জিতে ছিদ্র ছিল না : আসামিপক্ষের আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:৩১

আবু সাঈদ গুলিতে মারা যায়নি, অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি। এদিন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

দুলু বলেন, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক আজ শেষ হয়েছে। আমি তিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনসহ তিনজনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছি। এর মধ্যে একটি হলো আবু সাঈদের ওপর যে রাবার বুলেট বা পিলেটস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর ছিল কি না। কিন্তু এ নিয়ে কোনো যুক্তি খণ্ডন করেনি প্রসিকিউশন। এর অর্থ হলো আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি। অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন। অর্থাৎ হেড ইনজুরিতে (মাথায় আঘাত) মারা যাওয়ার ঘটনাটিকে সমর্থন করে। কারণ তার গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র ছিল না।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত আবু সাঈদের পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের একটিতেও সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই। অর্থাৎ এ প্রতিবেদনটি ডিফেক্টিভ বা ত্রুটিপূর্ণ। এ ছাড়া, আবু সাঈদকে যখন ছয়জন পুলিশ ঘিরে ধরে একজন পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, তখন আবু সাঈদ নিজেকে বাঁচাতে হাতের লাঠি দিয়ে পুলিশের একজন সদস্যের হাতের লাঠিকে প্রতিহত করেন। এ মামলায় আবু সাঈদের একটি বীরত্বগাঁথা রয়েছে। তিনি সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন।

গেঞ্জিতে ছিদ্র নেই প্রসঙ্গে দুলু বলেন, এ মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন যে, এই গেঞ্জির ছিদ্র নেই। গেঞ্জির অংশটি সামনের না পেছনের এটাও তিনি জানেন না। প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো প্রমাণ করা। তারা প্রমাণ করতে পারতেন এটা সামনের নাকি পেছনের অংশ। কিন্তু বলতে পারেনি। আর এ সন্দেহের কারণে আসামিরা খালাস পাবেন।

আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, এটা ছবির তথ্য। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পেলে এক্স-রে ও রেডিওস্কপি করতে হয়। এর মাধ্যমে গুলির যে অংশবিশেষ শরীরে রয়েছে তার উপস্থিতি নির্ণয় করা যাবে। যেহেতু এখানে গুলির কোনো কার্তুজ জব্দ করা হয়নি, তাহলে আমরা কি সিদ্ধান্তে আসব যে, তার দেহে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। অথবা যিনি ময়নাতদন্ত করেছেন, তিনি সঠিকভাবে করেননি। এছাড়া চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে ওই চিকিৎসক ময়নাতদন্তই করতে পারতেন না। সাক্ষ্যে তিনি ব্যাখ্যা দিতে পারতেন যে, আমি এ কারণে এক্স-রে বা রেডিওস্কপি করতে পারিনি। অথবা এই দুটি পরীক্ষা না করার জন্য অমুক-অমুক ব্যক্তি বা পুলিশের কর্মকর্তা দায়ী। এমন বললে আমরা বুঝতে পারতাম সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ওই চিকিৎসক। তিনি বলেছিলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য পরিবর্তনে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও বলেননি এক্স-রে করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন যে আমাকে মন্তব্য লিখতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রায়ের প্রত্যাশা রেখে দুলু বলেন, আমাদের প্রত্যাশা হলো আসামিদের খালাস দিয়ে প্রকৃত দায়ীদের বিচার করা। অর্থাৎ যে ছয় পুলিশ সদস্য মিলে মেরেছে, তাদের একজনকে মাত্র শনাক্ত করে আসামি বানানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনসহ যারা যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী তাদেরও আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত। সেই বিচারের মাধ্যমে আবু সাঈদ যে বীরত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, সেই বীরত্বকে দেখিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]