ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা, পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক সংঘাত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে রাশিয়া, ইসরায়েল ও পোল্যান্ডের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার হোয়াইট হাউস এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন দেশ যখন ভাবনাচিন্তা করছে, তখন মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশ দ্রুত সাড়া দিয়েছে। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ ও উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, তাদের নেতারা বোর্ডে যোগ দিতে প্রস্তুত। এই দুই নেতাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবটির বিভিন্ন দিক ও ‘সূক্ষ্মতা’ নিয়ে আলোচনা করছে রাশিয়া। তবে পুতিন বোর্ডে যোগ দেবেন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
গত বছরের অক্টোবরে ট্রাম্পের প্রশংসা করে পুতিন বলেছিলেন, তিনি ‘এই জটিল সংকটগুলো সমাধানে সত্যিই অনেক কাজ করছেন’।
ইসরায়েলও বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। তবে তারা আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক উপদেষ্টা।
অংশগ্রহণকারী দেশ সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাজ্যও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার জানান, এই উদ্যোগের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাজ্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত ব্রিটেন।
ইসরায়েলের ভেতরে বিরোধিতা
তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই উদ্যোগ ঘিরে আপত্তি উঠেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা বেজালেল স্মোটরিচ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত সিভিল মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (সিএমসিসি) বন্ধ করে দিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজা যুদ্ধের অবসানে ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাব দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির পর এখন পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করা হয়েছে। এই ধাপে নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি খসড়া সনদ অনুযায়ী, বোর্ড অব পিসকে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ৬০টি দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিলে কোনো দেশ স্থায়ী সদস্যপদ পাবে।