46865

01/18/2026 মীরপুর গার্লস আইডিয়ালের বহিষ্কৃত শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ প্রধান শিক্ষক

মীরপুর গার্লস আইডিয়ালের বহিষ্কৃত শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:০১

মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের বহিষ্কৃত সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি থেকে বাঁচতে সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা-কর্মচারী ও অভিভাবকরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা এই সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বরে আওয়ামী লীগের তৎকালিন সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার মাধ্যমে এমপিও প্যাটার্নের বাইরে নন-এমপিও ভিত্তিতে বিপাশাকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে সংসদ সদস্যের প্রভাবে তাকে ননএমপিও হিসেবে স্কুলে স্থায়ী করা হয়। কিন্তু চাকরিকালে নানা অভিযোগে তাকে একাধিকবার শোকজ করা হলেও তিনি শোধরাননি। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সহিংস আচরণ, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু স্কুল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে নানা বিষোদগার করছেন বিপাশা ইয়াসমিন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, নামে বেনামে মাউশিসহ বিভিন্ন দফতরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিপাশা ইয়াসমিন অভিযোগ দিচ্ছেন। এসব অভিযোগের বিষয় নিয়ে দফতরে দফতরে ঘুরতে ঘুরতে শিক্ষকদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিয়োগের পর থেকেই বিপাশা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন। তবে অভ্যন্তরীণ তদন্তসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন দফা তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আগে আওয়ামী লীগের এমপির ঘনিষ্ঠ, সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে স্কুলে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতেন না বিপাশা ইয়াসমিন। একজন সচিবের স্ত্রী পরিচয় দিয়েও বেড়াতেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার মিরপুর-১০ সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে সতর্ক করলেও তিনি নিবৃত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, বর্তমানে নিজেকে বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার ঘনিষ্ট পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দিচ্ছেন বিপাশা ইয়াসমিন। অদৃশ্য শক্তির বলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও তালিকাভুক্ত হয়েছেন এই বিপাশা। কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তিনি মাউশির কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আমার বেতনভাতা সাময়িক বন্ধ করা হয়। পরে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাউশির আদেশ স্থগিত করেছেন।

বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘একজন বহিষ্কৃত শিক্ষকের লাগাতার অপপ্রচারে আমরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শিক্ষা পরিবেশ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ, প্রভাতী শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানাসহ প্রতিষ্ঠানের ৪০ জনের মতো শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]