পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। কয়লা কেলেঙ্কারিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শুভেন্দু শুভেন্দু অধিকারী জড়িত রয়েছেন বলে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই মমতার বিরুদ্ধে এই মানহানির মামলা হলো।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আলিপুর আদালতে এই ১০০ কোটি রুপির মানহানির মামলা করেন শুভেন্দু। নিজের এক্স হ্যান্ডল পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান তিনি।
মামলার কপি পোস্ট করে শুভেন্দু লেখেন, ‘শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমি আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি, আর আপনি বিষয়গুলো নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেন। কয়লা কেলেঙ্কারিতে আমার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আপনার জঘন্য কাল্পনিক অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে মানহানির নোটিশের প্রতি আপনার প্রতারণামূলক নীরবতা কোনভাবেই আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আপনার (মমতা) প্রতারণামূলক অপকর্মের জন্য আপনাকে আদালতে টেনে আনার কথা বলেছিলাম এবং আমি সেকথা রেখেছি। আজই আপনার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি। দয়া করে আপনি অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করুন, নাহলে আপনাকে অবিলম্বে ১০০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, সেই অর্থ আমি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করব।’
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে ৯ জানুয়ারি পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তার অভিযোগ ছিল, ভোটের আগে তৃণমূলের রণকৌশল চুরি করার উদ্দেশেই হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। আর ইডির দাবি ছিল, ২০২০ সালে পুরনো একটি কয়লা মামলার তল্লাশিতেই আইপ্যাক অফিসে গিয়েছিল তারা। পরস্পরবিরোধী এই বয়ান নিয়ে তরজা চলছে এখনও।
তবে ইডির তল্লাশির পরদিন পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিলের পর হাজরা মোড়ে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। আমার প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খায়, কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। এখন তো সে অ্যাডপটেড সন (দত্তক পুত্র) হয়ে গিয়েছে। আরেকজন রয়েছে জগন্নাথ। তিনি হলেন বিজেপির এক বড় ডাকাত। বিজেপির জগন্নাথ টু শুভেন্দু অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী টু অমিত শাহ – এইভাবে কয়লা চুরির টাকা পকেটে ঢোকে।’
সূত্র: এনডিটিভি