সোমবার, ৯ই মার্চ ২০২৬, ২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২


২৫শে মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সারাদেশে কঠোর আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় এসব সিদ্ধান্তসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তৎপরতা সম্পর্কে কার্যপত্র থেকে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে এ সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় এই দুই দিবসের কর্মসূচি সুষ্ঠু ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ প্রশাসন। এ কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপাররা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলে গণহত্যা বিষয়ক বিরল ও তথ্যভিত্তিক আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজন বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ২৫ মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের কর্মসূচি সভায় ২৫ মার্চ রাতে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপাররা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২৫ মার্চ রাতে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ: সভায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়, গণহত্যা দিবসের শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।

এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই দিবসকে ঘিরে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে কর্মসূচিগুলো মর্যাদাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়